Operation Sindoor | অপারেশন সিঁদুর: পহেলগাঁও হামলার জবাবে ভারতের ঐতিহাসিক প্রত্যাঘাত!

Key Highlights২০২৫ সালের ৭ই মে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান অপারেশন সিঁদুর (operation sindoor) সম্পন্ন হয়। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এই অভিযানকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। পহেলগাঁও হামলা (pahalgam attack)-এর পর গোটা দেশে যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার জবাব হিসেবেই শুরু হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর অভিযান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, পরিকল্পনা এবং আধুনিক কৌশলের কারণে অপারেশন সিঁদুর সফল হয়েছিল বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে ফিরে দেখা যাক এই অভিযানের স্মৃতি, কীভাবে সফল হলো এই অভিযান।
২০২৫ সালের ৭ই মে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান অপারেশন সিঁদুর (operation sindoor) সম্পন্ন হয়। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের ইতিহাসে এই অভিযানকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। পহেলগাঁও হামলা (pahalgam attack)-এর পর গোটা দেশে যে ক্ষোভ ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তার জবাব হিসেবেই শুরু হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর অভিযান। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস, পরিকল্পনা এবং আধুনিক কৌশলের কারণে অপারেশন সিঁদুর সফল হয়েছিল বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে ফিরে দেখা যাক এই অভিযানের স্মৃতি, কীভাবে সফল হলো এই অভিযান।
পহেলগাঁও হামলা: আতঙ্কে কেঁপে উঠেছিল দেশ-
জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁও দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের নিশানায় ছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলা এমন এক ঘটনা ছিল, যা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ভারতে ভয়াবহ জঙ্গি আক্রমণ (terrorist attack in india) ঘটনার মধ্যে পহেলগাঁও-এর ঘটনা ছিল সবচেয়ে মর্মান্তিক। নিরীহ সাধারণ মানুষ, পর্যটক এবং নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে জঙ্গিরা হামলা চালায়। আচমকা গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয় এবং অনেকেই আহত হন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৬ জনের। আহত হন আরও ১০ জন। মৃতদের মধ্যে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৩ জন। পহেলগাঁও হামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হামলার আগে ১৫ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে পৌঁছে গিয়েছিল হামলাকারীরা জঙ্গিরা। বৈসরন উপত্যকা সহ কমপক্ষে চারটি স্থানে রেইকি করেছিল তারা। তাদের অন্য তিনটি সম্ভাব্য টার্গট পয়েন্ট ছিল আরু উপত্যকা, স্থানীয় বিনোদন পার্ক এবং বেতাব উপত্যকা।

কেন শুরু হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর ?
ভারতে অমানবিক এই জঙ্গি আক্রমণের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ছিল, কতদিন পর্যন্ত এই ধরনের হামলা চলবে? দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জোরালো হতে শুরু করে। এদিকে হামলার ঘটনার দায় নেয় লস্কর ই তৈবার সামনের সারির জঙ্গি সংগঠন 'দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF)। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে জানা যায়, হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলো সইফুল্লা খালিদ কসৌরি! জম্মু কাশ্মীরে লস্কর ই তৈবা এবং TRF এর যাবতীয় জঙ্গি কাজকর্মের তদারকি করে সইফুল্লা। লস্করের ডেপুটি চিফ বলা হয় সইফুল্লাকে। সে লস্করের মাথা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি হাফিজ সইদ, পাক সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তরের অফিসারদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
পহেলগাঁও হামলা (pahalgam attack)-এর তদন্তে উঠে আসে যে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের মদত দেওয়া হয়েছিল এবং কাশ্মীর উপত্যকায় একাধিক গোপন জঙ্গি ঘাঁটি সক্রিয় ছিল। এরপর ভারত সরকার ও সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেয় যে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থাকলে চলবে না, বরং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালাতে হবে। সেই পরিকল্পনা থেকেই শুরু হয় অপারেশন সিঁদুর (operation sindoor)। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল —
• জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা
• অনুপ্রবেশ বন্ধ করা
• অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া
• কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
আরও পড়ুন : 'অপারেশন সিঁদুর'-এর 'মুখ' কর্নেল সোফিয়া কুরেশি-উইং কমান্ডার ভূমিকা সিংকে চেনেন? জানুন পরিচয়!
ভারত সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ভারতে জঙ্গি আক্রমণ (terrorist attack in india)-এর জবাব কঠোরভাবেই দেওয়া হবে।

কীভাবে লড়াই করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী?
অপারেশন সিঁদুর (operation sindoor) চলাকালীন ভারতীয় সেনাবাহিনী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালায়। সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা হয়। জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে ব্যবহার করা হয় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি, ড্রোন এবং স্যাটেলাইট তথ্য। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ভারতীয় জওয়ানরা একাধিক জায়গায় অভিযান চালান। রাতের অন্ধকারে বিশেষ বাহিনী জঙ্গিদের ঘাঁটিতে পৌঁছে হামলা চালায়। সেনাবাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বহু জঙ্গি নিহত হয় এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অভিযানের সময় জওয়ানদের সাহসিকতা বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁরা পিছু হটেননি। বহু সেনাকর্মী নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিগুলোতে হামলা করেন ভারতীয় সেনারা। লস্কর ই তৈবা এবং এবং জইস ই মহম্মদের জঙ্গিদের মোট ৯টি জায়গায় আঘাত হেনে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। মৃত্যু হয় একাধিক সন্ত্রাসবাদীর। এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিং বলেন, এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সাহায্যে পাঁচটি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলি গুলি করে নামানো হয়। এ ছাড়াও একটি বড় এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল বা আর্লি ওয়ার্নিং এয়ারক্রাফটও ধ্বংস হয়েছে।
কেন সফল হয়েছিল অপারেশন সিঁদুর?
অপারেশন সিঁদুরে ভারত নির্দিষ্টভাবে ৯টি টার্গেট চিহ্নিত করেছিল এবং নিখুঁতভাবে সেখানে আঘাত হানে। মাত্র ৮৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান সম্পন্ন করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর (operation sindoor) সফল হওয়ার পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল। প্রথমত, সেনাবাহিনীর নিখুঁত পরিকল্পনা। গোয়েন্দা তথ্যের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল। ফলে জঙ্গিদের পালানোর সুযোগ কমে যায়। দ্বিতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ড্রোন নজরদারি, স্যাটেলাইট ম্যাপিং এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে সেনাবাহিনী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছিল। তৃতীয়ত, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা। বহু স্থানীয় বাসিন্দা গোপনে সেনাবাহিনীকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা যায়। এর ফলে জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করা সহজ হয়েছিল। সবশেষে, ভারতীয় জওয়ানদের সাহস ও মানসিক শক্তি এই অভিযানের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল। প্রতিকূল পরিবেশেও তাঁরা দেশের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

অপারেশন সিঁদুরে ভারত শুধু সীমান্তেই নয়, পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকেও আঘাত হানে। সিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর সহ একাধিক জায়গায় জঙ্গিদের লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয় অপারেশন সিঁদুরে। এই অভিযানে ভারতের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় শূন্য ছিল। ভারতীয় বায়ুসেনা রাফাল (Dassault Rafale), SCALP মিসাইল ও HAMMER-র মতো শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে মাত্র ২৩ মিনিটেই মিশন সম্পন্ন করেছিল। অন্যদিকে ইসরো (ISRO) ১০টি স্যাটেলাইট দিয়ে নজরদারি চালায়। অপারেশন সিঁদুরের পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখা থেকে শুরু করে সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ-সবই ছিল সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধু সামরিক অভিযান ছিল না, এটি ছিল একটি সর্বস্তরের জাতীয় উদ্যোগ। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ভারতে জঙ্গি আক্রমণ হলে তার জবাব আরও শক্তভাবে দেওয়া হবে।
- Related topics -
- দেশ
- ভারত
- অপারেশন সিঁদুর
- পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা
- জঙ্গিগোষ্ঠী
- জঙ্গি হামলা
- প্রতিরক্ষা বাহিনী
- প্রতিরক্ষা
- ভারতীয় সেনা
- ভারতীয় সেনা
- নরেন্দ্র মোদি
- পাকিস্তান









