Neuropathy | হাত-পায়ে ক্রমাগত অসাড়তা ও ব্যথা? সাবধান! হতে পারে নিউরোপ্যাথি!

Tuesday, May 16 2023, 3:34 pm
highlightKey Highlights

ডায়াবেটিস, ভিটামিনের অভাব এমনকি দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপানের ক্ষেত্রেও হতে পারে নিউরোপ্যাথি।


সারা দিন খাটা-খাটনির পর প্রায় সবাই অল্প-সামান্য গায়ে ব্যথা, শরীর দুর্বলতাতে ভুগে থাকেন। তবে আপনার যদি ক্রমাগত হাত পায়ে অসাড়তা, ঝিঁ ঝিঁ ধরা ভাব, মাংসপেশী দুর্বলতা এবং শরীরে ব্যথা অনুভব হয়ে থাকে তাহলে তা সহজভাবে নেবেন না। এই উপসর্গ হতে পারে স্নায়ু রোগের (Nerve Disease) লক্ষণ! নার্ভ (Nerve) বা স্নায়ুর ব্যথা নিউরোপ্যাথিক ব্যথা (Neuropathic Pain) নামেও পরিচিত। নিউরোপ্যাথি (Neuropathy) হলো এক বা একাধিক স্নায়ুর ক্ষতি বা কর্মহীনতা যার ফলে হাত পায়ে অসাড়তা, ঝিঁ ঝিঁ, মাংসপেশী দুর্বলতা এবং ব্যথা অনুভব হয়। সাধারণত এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের লক্ষণগুলি আমাদের হাতে ও পায়ে প্রথমে দেখা যায়, যা পরবর্তীকালে ছড়িয়ে পড়ে গোটা শরীরে।

হাত পায়ে ক্রমাগত অসাড়তা , ব্যথা হলে হতে পারে নিউরোপ্যাথি<br>
হাত পায়ে ক্রমাগত অসাড়তা , ব্যথা হলে হতে পারে নিউরোপ্যাথি<br>

স্নায়ু ব্যথার সাধারণ উপসর্গ হলো, আক্রান্ত স্থানে হঠাৎ করেই ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভব করা। এই ব্যথা শরীরে বৈদ্যুতিক শকের (Electric Shock) মতো অনুভব হতে পারে। তবে এই ব্যথা হালকা থেকে তীব্রতর হতে পারে। বিশেষত এই ব্যথা রাতে বেশি হয়। বর্তমানে এই রোগে আক্রান্ত অসংখ্য মানুষ। 

এই ব্যথা ইলেকট্রিক শকের মত অনুভূত হয়
এই ব্যথা ইলেকট্রিক শকের মত অনুভূত হয়

নিউরোপ্যাথিক ব্যথার কারণ | Causes of Neuropathic Pain : 

সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগ জিনগত (Genetics) কারণে হয়। তবে জিনগত কারণ ছাড়াও আরও বিভিন্ন কারণে নিউরোপ্যাথিক ব্যথা হয়ে থাকতে পারে।

১. ডায়াবেটিস | Diabetes : 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (United States) একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিউরোপ্যাথির অন্যতম প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি হল ডায়াবেটিস। অন্তত ৬০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ ডায়াবেটিকস রোগী (Diabetic Patients) নিউরোপ্যাথিতে ভোগেন। এক্ষেত্রে হাত ও পায়ের ব্যথা ও জ্বালার মতো অনুভূতি করে থাকেন রোগীরা।

ডায়াবেটিস রোগীদের নিউরোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
ডায়াবেটিস রোগীদের নিউরোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

২. অটোইমিউন ডিসঅর্ডার | Autoimmune Disorders :

যে সকল ব্যক্তিরা জিবিএস (GBS), লুপাস (Lupus), রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid Arthritis), সেজাগ্রেনের সিনড্রোম (Sjögren's Syndrome), এবং ক্রনিক ইনফ্ল্যামেটরি পলিনিউরোপ্যাথি (Chronic Inflammatory Polyneuropathy) ইত্যাদিতে আক্রান্ত তাদের নিউরোপ্যাথিক ব্যথা হয়ে থাকে।

৩. জীবাণু দ্বারা গঠিত সংক্রমণ রোগ | Bacterial Infections :

অনেক ক্ষেত্রে জীবাণু দ্বারা গঠিত সংক্রমণের জন্যও নিউরোপ্যাথিক ব্যথা হয়ে থাকে। যেমন, চিকেনপক্স (Chickenpox), শিংলস (Shingles), এইচআইভি (HIV), হারপিস (Herpes), সিফিলিস (Syphilis), লাইম ডিজিজ (Lyme Disease),  কুষ্ঠ (Leprosy), ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস (West Nile virus)-এর মতো অণুজীবের সংক্রমনের ফলে নিউরোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগের কারণেও হতে পারে নিউরোপ্যাথি
জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত রোগের কারণেও হতে পারে নিউরোপ্যাথি

৪. ওষুধ এবং বিষের কারণে ।  Drugs and Poisons :

আমাদের সামান্য সর্দি কাশি জ্বর হলেই অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) ওষুধ খেয়ে থাকি। কিন্তু আপনি কি জানেন এই অ্যান্টিবায়োটিক থেকে হতে পারে নিউরোপ্যাথি? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-সিজার (Anti-Seizure), এইচআইভি (HIV), ক্যান্সার কেমোথেরাপি (Cancer Chemotherapy) ওষুধের কারণে পেরিফেরাল স্নায়ুর (Peripheral Nerves) ক্ষতি করতে পারে।এছাড়াও বিষাক্ত পদার্থ যেমন সীসা-পারদ, শিল্প রাসায়নিক, রাসায়নিক দ্রবণ এবং রাসায়নিক গ্যাস ইত্যাদিও আমাদের স্নায়ুর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে যার ফলে নিউরোপ্যাথি হতে পারে।

নানারকমের ওষুধ থেকে&nbsp;নিউরোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
নানারকমের ওষুধ থেকে নিউরোপ্যাথি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

৫. ভিটামিনের অভাব এবং মদ্যপান | Vitamin Deficiency and Inadequacy :

শরীরে ভিটামিন ই (Vitamin E), ভিটামিন বি ১ (Vitamin B1), ভিটামিন বি ৩ (Vitamin B3), ভিটামিন বি ৬ (Vitamin B6) এবং নায়সিন (Niacin)-এর অভাবেও হতে পারে নিউরোপ্যাথি। এছাড়াও ডাক্তাররা বলছেন, যে সকল ব্যক্তিরা দীর্ঘমেয়াদি মদ্যপান (Drinking), অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং বেপরোয়া জীবন যাপন করে থাকেন তাদের এই স্নায়ু রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে।

ভিটামিনের অভাবে ও মদ্যপানের কারণে হতে পারে স্নায়ু রোগ
ভিটামিনের অভাবে ও মদ্যপানের কারণে হতে পারে স্নায়ু রোগ

৬. আঘাত | Trauma :

অনেক সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া, গাড়ি দুর্ঘটনা, হাড় ভেঙে যাওয়া বা বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে আঘাত পাওয়ার ফলে স্নায়ুতে চোট লাগতে পারে। যার ফলে নিউরোপ্যাথি হতে পারে।

এছাড়াও কিডনির রোগ (Kidney Disease), লিভারের ব্যাধি (Liver Disease), হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism), টিউমার (Tumors), লিম্ফোমা (Lymphoma) এবং মনোক্লোনাল গ্যামোপ্যাথি (Monoclonal Gammopathy ) রোগের ফলেও নিউরোপ্যাথি হতে পারে। পাশাপাশি বংশগত অ্যামাইলয়েডোসিস (Hereditary Amyloidosis), ফ্যাব্রি ডিজিজ (Fabry Disease) এবং মেটাক্রোমোটিক লেকোডিস্টোফিন (Metachromatic Leukodystrophy)-এর মতো বংশধর্থ্য ব্যাধির ফলেও এই ধরণের স্নায়ু রোগ হয়ে থাকে।

আঘাত জনিত কারণেও&nbsp;নিউরোপ্যাথির ব্যথা হতে পারে
আঘাত জনিত কারণেও নিউরোপ্যাথির ব্যথা হতে পারে

নিউরোপ্যাথির লক্ষণ ও উপসর্গ | Signs and Symptoms of Neuropathy :

  • হাত এবং পায়ে অসাড়তা এবং পিন ফোটানোর মতো অনুভূতি হওয়া।
  • তীক্ষ্ণ, জ্বলন্ত, ঝাঁকুনি, ছুরিকাঘাত বা বৈদ্যুতিক শখ লাগার মত ব্যথা অনুভব হওয়া।
  • রাতে চাপ, তাপমাত্রা এবং স্পর্শের অনুভব করার অক্ষমতা।
  • স্পর্শ চরম সংবেদনশীলতা অনুভব করা।
  • ভারসাম্য এবং সমন্বয়হীনতা।
  • পেশির দুর্বলতা, হাঁটাচলা এবং হাত পা নাড়াতে অসুবিধা হওয়া।
  • মাংসপেশির খিঁচুনি এবং ক্র্যাম্প (Cramps) হওয়া।
  • শরীরে নির্দিষ্ট একটি অংশ নড়াচাড়া করতে অক্ষমতা।
  • নিম্ন রক্তচাপ, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন, দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় মাথা ঘুরানো, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
  • প্রস্রাব,পায়খানা নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা, খাদ্য পরিপাকের সমস্যা হওয়া, বমি বমি ভাব, ঘন ঘন ডায়রিয়া হওয়া এবং অনেক সময় কষ্ঠকাঠিন্য হওয়া।
  • অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস।
সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিউরোপ্যাথি নিরাময় করা সম্ভব
সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিউরোপ্যাথি নিরাময় করা সম্ভব

 নিউরোপ্যাথি চিকিৎসার ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয়, যার ফলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিউরোপ্যাথি রোগীকে সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়াও এই ধরণের স্নায়ু রোগ থেকে নিজেকে সুস্থ রাখতে অবশ্যই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে ভিটামানের চাহিদা পূরণ করা, শরীর চর্চা করা অত্যন্ত জরুরি। পরিস্থিতি বাড়াবাড়ি হলে অব্যশই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিন।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File