Kali Puja 2026 | বারাসতকে টক্কর দিয়ে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু নৈহাটি, এবার কালীপুজোয় কোন ১০ মণ্ডপ না দেখলেই নয়?

Key Highlightsদিওয়ালি বা দীপাবলি (diwali or deepavali) ও কালীপুজোর আলোয় সেজে উঠেছে পুরো পশ্চিমবঙ্গ। কালীপুজো (Kali Maa) বলতেই একসময়ে মানুষের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বারাসতের নাম উঠে আসত। তবে গত কয়েক বছরে সেই ছক ভেঙে দারুণভাবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে নৈহাটি। ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো তো রয়েছেই, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একের পর এক তাক লাগানো থিম ও চমৎকার প্রতিমা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। মা কালীর (Maa Kali) আরাধনায় নৈহাটির এই থিম পুজোগুলি এখন রাজ্যজুড়ে এক আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে। সামনেই দেবীর পুজো, তাই হাতে সময় রেখে সপরিবারে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন নৈহাটির সেরা দশ কালীপুজোয়।
দিওয়ালি বা দীপাবলি (diwali or deepavali) ও কালীপুজোর আলোয় সেজে উঠেছে পুরো পশ্চিমবঙ্গ। কালীপুজো (Kali Maa) বলতেই একসময়ে মানুষের প্রথম গন্তব্য হিসেবে বারাসতের নাম উঠে আসত। তবে গত কয়েক বছরে সেই ছক ভেঙে দারুণভাবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে নৈহাটি। ঐতিহ্যবাহী বড়মার পুজো তো রয়েছেই, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একের পর এক তাক লাগানো থিম ও চমৎকার প্রতিমা দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। মা কালীর (Maa Kali) আরাধনায় নৈহাটির এই থিম পুজোগুলি এখন রাজ্যজুড়ে এক আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে। সামনেই দেবীর পুজো, তাই হাতে সময় রেখে সপরিবারে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন নৈহাটির সেরা দশ কালীপুজোয়।
১. নারকেল বাগান অধিবাসীবৃন্দ :
তালিকার একদম শুরুতেই রাখা যাক নারকেল বাগান অধিবাসীবৃন্দের পুজোকে। গত বছর ‘দ্য জঙ্গল বুক’ থিমের হাত ধরে ছোটদের ও বড়দের নজর কেড়েছিল তারা। তবে এই বছর এখানকার পুজো একেবারে অন্যরকমভাবে গোটা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে। তাদের তৃতীয় বর্ষের এই ক্লাবের মূল থিমই হল ‘গ্রাম বাংলা’। এই মণ্ডপে প্রবেশ করলে মনে হবে আপনি কোনো আসল গ্রামে এসে পৌঁছছেন, যেখানে দেবী প্রতিমাও এক ছাপোষা গ্রাম্য কন্যারূপেই মণ্ডপে বিরাজমান।

২. পানপুর বালকবৃন্দ :
চলতি বছর ৪১তম বর্ষে পা দিয়েছে পানপুর বালকবৃন্দের পুজো। গত বছর নৈহাটিবাসীর জন্য তারা নিয়ে এসেছিল এক দারুণ চমক—হাত বাড়ালেই দিঘার জগন্নাথ মন্দির! সেই আদলেই সেজে উঠেছিল তাদের বর্ণাঢ্য মণ্ডপ। এ বার তারা কিছুটা আলাদা ও আধ্যাত্মিক ভাবনার ওপর জোর দিয়েছে। পানপুর বালকবৃন্দের এই বছরের থিম ও ভাবনা হল ‘নীলকণ্ঠ ধাম’, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
৩. ভারতমাতা সেবা সমিতি :
কালীপুজোর নিরিখে নৈহাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় পুজো হল ভারতমাতা সেবা সমিতি। গত বছর তারা পরিবেশবান্ধব বার্তা দিয়ে সমাজের নজর কেড়েছিল। প্রতি বছরই কিছু না কিছু সামাজিক ও সৃজনশীল ভাবনার প্রকাশ ঘটিয়ে তারা তাক লাগিয়ে দেয়। এই বছর তাদের নতুন কী ভাবনা দর্শনার্থীদের জন্য অপেক্ষা করছে, তা দেখতে এখন থেকেই ভিড় জমাচ্ছেন মানুষ।
আরও পড়ুন : শাস্ত্রমতে রক্তজবা ছাড়া কালীপুজো নাকি অসম্পূর্ণ! কেন এই অদ্ভুত নিয়ম ? জানুন বিস্তারিতভাবে
৪. নৈহাটি অগ্রগামী সঙ্ঘ মহাপীঠ :
মহাশ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী কালী—এই থিমকে সামনে রেখে নৈহাটি অগ্রগামী সঙ্ঘ মহাপীঠের পুজো গত বছর দারুণ সাড়া ফেলেছিল। তারাপীঠ মহাশ্মশানের নিখুঁত আদলে সেজে উঠেছিল তাদের সেই মণ্ডপ, যেখানে দর্শনার্থীরাও জমিয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন। এই বছরও তাদের আয়োজন যে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। মা কালীর ভয়াল অথচ করুণাময়ী রূপ দেখতে এখানে প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে।
৫. নৈহাটি অভিযাত্রী ক্লাব (কেদারনাথ দর্শন) :
হিমালয়ে গিয়ে কেদারনাথ দর্শন করার ইচ্ছে কার না থাকে? তবে সময় বা সুযোগের অভাবে অনেকেই তা করে উঠতে পারেন না। তাদের জন্য নৈহাটির অভিযাত্রী ক্লাব নিয়ে এসেছে দারুণ সুযোগ। চলতি বছর তাদের থিম বা ভাবনা হল কেদারনাথের মন্দির। মণ্ডপের নিখুঁত কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কেদারনাথ ধামের আবহ। অন্য দিকে, সেখানকার পাড়ার সবাই মিলে ক্লাবেও এই বছর মহা সমারোহে মহাকালের দর্শন মিলবে।

৬. গোপাল স্মৃতি সঙ্ঘ :
নৈহাটির পুজো পরিক্রমায় সময় করে অবশ্যই দেখে নিতে পারেন গোপাল স্মৃতি সঙ্ঘের পুজো। এই বছর তাদের শিল্পভাবনায় ও মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠেছে সুদূর নেপালের বুদ্ধ মন্দির। ভিন্নধর্মী ও আন্তর্জাতিক স্থাপত্যের ছোঁয়া পেতে এই মণ্ডপটি আপনার ভ্রমণপিপুসু মনকে তৃপ্তি দেবে।
৭. স্বামীজি সঙ্ঘ (অযোধ্যার রামমন্দির) :
অযোধ্যায় গিয়ে রামমন্দির দর্শনের সুযোগ কি সবার হয়? চিন্তা নেই! নৈহাটির স্বামীজি সঙ্ঘের পুজোয় এলেই মিলবে সেই কাঙ্ক্ষিত দর্শন। ২০২৬ সালের কালীপুজোয় তাদের প্রধান আকর্ষণ হল অযোধ্যার রামমন্দিরের আদলে তৈরি জমকালো মণ্ডপ। আলোকসজ্জা এবং নির্মাণশৈলীতে এটি নৈহাটির অন্যতম সেরা আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
৮. মক্কেশ্বর ঘাট সর্বজনীন শ্রীশ্রী শ্যামা পুজো :
নৈহাটির প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে একটি অন্যতম নাম হলো মক্কেশ্বর ঘাট সর্বজনীন শ্রীশ্রী শ্যামা পুজো। গত বছরই এই ঐতিহ্যবাহী পুজো শতবর্ষে পা দিয়েছে। শতবর্ষের গণ্ডী পেরিয়েও এর জৌলুস ও প্রাচীন ঐতিহ্য আজও এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং ভক্তদের সমাগম প্রতি বছর বেড়েই চলেছে।

৯. নৈহাটি পার্ক কর্নার সর্বজনীন কালীপুজো :
নৈহাটির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নৈহাটি পার্ক কর্নার সর্বজনীন কালীপুজো। এটিও এই অঞ্চলের অত্যন্ত প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছর পুজোর ক’দিন এখানকার আলোকসজ্জা ও জমজমাট পরিবেশ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন।
১০. বিখ্যাত ২৯ হাত কালীপুজো :
নৈহাটির কালীপুজো বলতেই যার নাম সবার আগে মাথায় আসে, তা হলো এখানকার সুবিখ্যাত ২৯ হাত কালীপুজো। ২৯ হাত লম্বা এক বিশাল আকৃতির দেবীর প্রতিমাই হলো এই পুজোর সবথেকে বড় বিশেষত্ব। এত বিশাল প্রতিমার রূপ ও পুজো দেখতে কালীপুজোর রাতে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।

বারাসতের পাশাপাশি নৈহাটি এখন পশ্চিমবঙ্গের থিম পুজোর মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। একদিকে প্রাচীন ঐতিহ্যের বড়মা ও প্রাচীন মন্দিরগুলি, অন্যদিকে আধুনিক থিম ও শৈল্পিক মণ্ডপসজ্জা—সব মিলিয়ে নৈহাটির কালীপুজো এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। আপনি যদি প্যান্ডেল হপিং বা প্রতিমা দর্শনে প্রেমী হন, তবে এ বছরের কালীপুজোয় নৈহাটির এই সেরা দশ পুজো আপনার ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই রাখা উচিত। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এই দীপাবলিতে নৈহাটির আলো ঝলমলে রূপ উপভোগ করুন এবং মা কালীর আশীর্বাদ নিন।
- Related topics -
- অন্যান্য
- পুজো ও উৎসব
- কালীপূজা
- নৈহাটী
- রাজ্য








