Matangini Hazra | ১৫ই আগস্ট ও নারী শক্তি: ৭৩ বছর বয়সে ব্রিটিশ বুলেট থামায়নি 'গান্ধী বুড়ি' মাতঙ্গিনী হাজরাকে!

Key Highlightsপ্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস (Indian Independence Day) উপলক্ষ্যে সারা দেশজুড়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের (Indian Freedom Struggle) ইতিহাস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহু মহান পুরুষ বিপ্লবীর মুখ। কিন্তু ইতিহাস বইয়ের মূল স্রোতে প্রায়শই আড়ালে পড়ে যায় প্রান্তিক নারীদের আত্মত্যাগ। তেমনই এক অবিস্মরণীয় ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস গড়েছিলেন মেদিনীপুরের ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা—মাতঙ্গিনী হাজরা (Matangini Hazra)। ‘গান্ধী বুড়ি’ (Gandhi Buri) নামে পরিচিত এই বীরাঙ্গনা নারী ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনে’ (Quit India Movement) যে সাহস ও আত্মবলিদান দেখিয়েছিলেন, তা আজও ভারতীয় ইতিহাসের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।
প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস (Indian Independence Day) উপলক্ষ্যে সারা দেশজুড়ে জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানানো হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের (Indian Freedom Struggle) ইতিহাস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বহু মহান পুরুষ বিপ্লবীর মুখ। কিন্তু ইতিহাস বইয়ের মূল স্রোতে প্রায়শই আড়ালে পড়ে যায় প্রান্তিক নারীদের আত্মত্যাগ। তেমনই এক অবিস্মরণীয় ও বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস গড়েছিলেন মেদিনীপুরের ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা—মাতঙ্গিনী হাজরা (Matangini Hazra)।
‘গান্ধী বুড়ি’ (Gandhi Buri) নামে পরিচিত এই বীরাঙ্গনা নারী ১৯৪২ সালের ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলনে’ (Quit India Movement) যে সাহস ও আত্মবলিদান দেখিয়েছিলেন, তা আজও ভারতীয় ইতিহাসের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়।

তমলুকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ৭৩ বছরের এক সিংহহৃদয়
১৯৪২ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর, বঙ্গদেশের মেদিনীপুর জেলার তমলুকে তৈরি হয় এক অভূতপূর্ব ইতিহাস। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ও স্থানীয় তমলুক থানা দখল করতে হাজার হাজার মানুষের বিশাল মিছিল এগিয়ে চলে। এই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন ৭৩ বছর বয়সী মাতঙ্গিনী হাজরা।
মিছিলটি যখন থানার দিকে এগোতে থাকে, সশস্ত্র ব্রিটিশ পুলিশ পদযাত্রা থামাতে নির্দেশ দেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। কিন্তু বুলেট কিংবা মৃত্য ভয়—কোনো কিছুই মাতঙ্গিনী হাজরাকে থামাতে পারেনি।
- প্রথম গুলি: হাতে ভারতের তেরঙা পতাকা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে প্রথম গুলি লাগে।
- দ্বিতীয় গুলি: রক্তে ভেসে গেলেও পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি তিনি; 'বন্দে মাতরম' ধ্বনি দিয়ে এগিয়ে যান এবং দ্বিতীয় বার গুলিবিদ্ধ হন।
- শহিদ বরণ: পরপর তিনবার গুলি বিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও জাতীয় পতাকাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে রেখেছিলেন তিনি। অবশেষে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শহিদের মর্যাদা লাভ করেন।
আরও পড়ুন : স্বাধীনতা দিবসের অজানা ইতিহাস: কীভাবে রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীরা পেলেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার?
গ্রামীণ নারী শক্তি ও অল-উইমেন প্রতিরোধ
মাতঙ্গিনী হাজরার এই আত্মত্যাগ কেবল একক কোনো বীরত্বের গল্প নয়। এটি ছিল তৎকালীন বাংলার গ্রামীণ নারীদের সক্রিয় রাজনীতি ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার এক বিশাল বিস্ফোরণ। মেদিনীপুর ও তমলুকের ঘরে ঘরে সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে আসা নারীরা যেভাবে সংঘটিত হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তা তৎকালীন সময়ে নারী ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

কেন এই ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক?
ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে অহিংসা ও সশস্ত্র আন্দোলনের পাশাপাশি তৃণমূল স্তরের গণআন্দোলনের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভারতের স্বাধীনতা কোনো একক দল বা ব্যক্তির অর্জিত ফল নয়; এর নেপথ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে হাজার হাজার নারীর রক্ত ও ত্যাগ।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মাতঙ্গিনী হাজরা ও তৎকালীন নারী বিপ্লবীদের এই ইতিহাসকে চর্চায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও নিজের অধিকার ও স্বদেশের সম্মানের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে হয়।
- Related topics -
- দেশ
- ভারত
- স্বাধীনতা দিবস
- স্বাধীনতা সংগ্রামী
- মাতঙ্গিনী হাজরা









