Indian Independence Day | স্বাধীনতা দিবসের অজানা ইতিহাস: কীভাবে রাজ্য মুখ্যমন্ত্রীরা পেলেন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার?

Key Highlightsপ্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে (Indian Independence Day) নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজধানীগুলিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন (National Flag Hoisting) করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পরিচিত এক দৃশ্য হলেও, স্বাধীনতার পর প্রায় আড়াই দশক ধরে এই নিয়ম চালু ছিল না। ১৯৭৪ সালের আগে পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবস ও সাধারণতন্ত্র দিবস—উভয় উপলক্ষেই রাজ্যের রাজ্যপালরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন। কীভাবে এবং কার উদ্যোগে বদলে গিয়েছিল এই ঐতিহাসিক প্রোটোকল? জেনে নিন ভারতীয় গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর (Federalism in India) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
প্রতি বছর ১৫ই আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে (Indian Independence Day) নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের রাজধানীগুলিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন (National Flag Hoisting) করেন। সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও পরিচিত এক দৃশ্য হলেও, স্বাধীনতার পর প্রায় আড়াই দশক ধরে এই নিয়ম চালু ছিল না।
১৯৭৪ সালের আগে পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবস ও সাধারণতন্ত্র দিবস—উভয় উপলক্ষেই রাজ্যের রাজ্যপালরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতেন। কীভাবে এবং কার উদ্যোগে বদলে গিয়েছিল এই ঐতিহাসিক প্রোটোকল? জেনে নিন ভারতীয় গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর (Federalism in India) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কে আরও পড়ুন : স্বাধীনতার আনন্দ নাকি সীমান্ত বিভীষিকা? স্বাধীনতা পেলেও নিজ দেশের ঠিকানা জানতেন না কোটি কোটি মানুষ!
প্রোটোকলের পুরনো নিয়ম ও অসমতা
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন এবং রাজ্যগুলিতে কেন্দ্র নিয়োজিত প্রতিনিধি অর্থাৎ রাজ্যপালরা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এই ব্যবস্থায় এক ধরনের সাংবিধানিক অসঙ্গতি তৈরি হয়েছিল:
- কেন্দ্র সরকারের প্রধান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (প্রধানমন্ত্রী) জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন।
- কিন্তু রাজ্যের ক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রধান (মুখ্যমন্ত্রী) বাদ পড়ে যাচ্ছেন এবং মনোনীত রাজ্যপাল পতাকা উত্তোলনের অধিকার পাচ্ছেন।
এই ব্যবস্থাটি রাজ্য সরকারের স্বায়ত্তশাসন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মর্যাদাকে কিছুটা হলেও ক্ষুণ্ণ করছিল।

এম. করুণানিধি এবং ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা সেই ঐতিহাসিক চিঠি
১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তামিলনাড়ুর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এবং ডিএমকে (DMK) সুপ্রিমো এম. করুণানিধি (M. Karunanidhi) এই অসমতার বিরুদ্ধে সরব হন। রাজ্যের স্বায়ত্তশাসন এবং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর অধিকার সুনিশ্চিত করতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে (Indira Gandhi) একটি ঐতিহাসিক চিঠি লেখেন।
চিঠিতে করুণানিধি যুক্তি দেন:
"যদি দিল্লিতে কেন্দ্র সরকারের নির্বাচিত প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন, তবে রাজ্যগুলিতে জনগণের নির্বাচিত প্রধান অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রীদেরও এই অধিকার পাওয়া উচিত।"
তিনি প্রস্তাব দেন, রাজ্যপালরা ২৬শে জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলন করবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীরা ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে এই মর্যাদা পাবেন।
ভারতের স্বাধীনতা সম্পর্কে আরও পড়ুন : ১৯৪৭ সালে ১৫ই অগাস্ট গোটা দেশে পালন হয়নি স্বাধীনতা দিবস! বিরত ছিল ৯টি রাজ্য!
১৯৭৪ সালের সিদ্ধান্ত ও নতুন ঐতিহ্যের সূচনা
এম. করুণানিধির এই যুক্তিভিত্তিক দাবি মেনে নেয় তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৭৪ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নতুন প্রোটোকল অনুমোদন করেন।
এরপর ১৯৭৪ সালের ১৫ই আগস্ট প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের সেন্ট জর্জ ফোর্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান এম. করুণানিধি। সেই থেকেই ভারতের সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকার পান।

কেন এই ঘটনা ভারতীয় গণতন্ত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে এই নিয়ম পরিবর্তন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রোটোকল বদল ছিল না, এটি ছিল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের (Centre-State Relations) এক বিশাল রাজনৈতিক জয়। এটি প্রমাণ করে যে ভারতীয় সংবিধানের প্রাণভোমরা লুকিয়ে রয়েছে এর যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসনের ওপর।
আজ যখনই কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ১৫ই আগস্ট জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন, তার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে ১৯৭৪ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সাংবিধানিক লড়াই।
- Related topics -
- দেশ
- ভারত
- স্বাধীনতা দিবস
- ভারতের জাতীয় পতাকা
- জাতীয় পতাকা
- ইতিহাস









