World Music Day | বিশ্ব সঙ্গীত দিবস: ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য ও সুরের অনন্য জগৎ!

Sunday, June 21 2026, 11:31 am
World Music Day | বিশ্ব সঙ্গীত দিবস: ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য ও সুরের অনন্য জগৎ!
highlightKey Highlights

প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সঙ্গীত দিবস (World Music Day)। সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য উদযাপন এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গীতচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই দিনটি পালন করা হয়। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সঙ্গীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর ভারতীয় সঙ্গীতের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রের অসামান্য অবদান। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবসের (international music day​) দিন জেনে নেওয়া যাক ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য ও সুরের অনন্য জগৎ সম্পর্কে।


প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব সঙ্গীত দিবস (World Music Day)। সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য উদযাপন এবং নতুন প্রজন্মকে সঙ্গীতচর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই দিনটি পালন করা হয়। ভারত এমন একটি দেশ, যেখানে সঙ্গীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর ভারতীয় সঙ্গীতের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রের অসামান্য অবদান। আন্তর্জাতিক সঙ্গীত দিবসের (international music day​) দিন জেনে নেওয়া যাক ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রের ঐতিহ্য ও সুরের অনন্য জগৎ সম্পর্কে।

ভারতীয় সঙ্গীতের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। বৈদিক যুগ থেকেই বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, লোকসংস্কৃতি এবং রাজদরবারে সঙ্গীতের ব্যবহার দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে অসংখ্য বাদ্যযন্ত্র, যা আজও ভারতীয় শাস্ত্রীয়, লোক এবং আধুনিক সঙ্গীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রকে (indian musical instruments​) সাধারণত চারটি ভাগে ভাগ করা হয়— তারবাদ্য, তবলা বা চর্মবাদ্য, বায়ুবাদ্য এবং ঘনবাদ্য।

Trending Updates

সেতার: ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিচয়

সেতার ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারবাদ্য। এর মধুর ও গভীর সুর সারা বিশ্বে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে পরিচিত করেছে। দীর্ঘ কাঠের দেহ এবং একাধিক তারযুক্ত এই বাদ্যযন্ত্র মূলত হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে ব্যবহৃত হয়। সেতারের সুর ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রশান্তির অনুভূতি তৈরি করতে সক্ষম। বিশ্ববিখ্যাত সেতার শিল্পী Ravi Shankar এই বাদ্যযন্ত্রকে আন্তর্জাতিক স্তরে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন।

তবলা: ভারতীয় তাল ও লয়ের প্রাণ

ভারতীয় সঙ্গীতের কথা বললে তবলাকে বাদ দেওয়া যায় না। দুটি আলাদা ড্রাম নিয়ে তৈরি এই বাদ্যযন্ত্র শাস্ত্রীয়, আধুনিক এবং চলচ্চিত্র সঙ্গীতেও সমান জনপ্রিয়।তবলায় বিভিন্ন ধরনের তাল বাজানো সম্ভব, যা গান ও নৃত্যের সঙ্গে অসাধারণ সমন্বয় তৈরি করে। ভারতীয় সঙ্গীতের ছন্দ ও লয়ের মূল ভিত্তি হিসেবে তবলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাঁশি: প্রকৃতির সুরের প্রতীক

বাঁশি ভারতের অন্যতম প্রাচীন বায়ুবাদ্য। বাঁশ দিয়ে তৈরি এই বাদ্যযন্ত্রের সুর অত্যন্ত কোমল ও হৃদয়স্পর্শী। ভারতীয় পুরাণে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে বাঁশির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে শুরু করে লোকগীতি পর্যন্ত বিভিন্ন ধারার সঙ্গীতে বাঁশির ব্যবহার দেখা যায়। এর সুর মানুষের মনে প্রশান্তি ও আনন্দের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

সরোদ: গভীর ও শক্তিশালী সুরের বাদ্যযন্ত্র

সরোদ ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তারবাদ্য। এর ধাতব তার এবং বিশেষ কাঠামো এক অনন্য সুর তৈরি করে। সরোদের সুরকে অনেকেই গভীর, আবেগপূর্ণ এবং শক্তিশালী বলে মনে করেন। একক পরিবেশনার পাশাপাশি বিভিন্ন সঙ্গীত অনুষ্ঠানে এই বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার জনপ্রিয়।

শেহনাই: শুভ অনুষ্ঠানের সঙ্গী

শেহনাই এমন একটি বায়ুবাদ্য যা ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বিয়ে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন শুভ অনুষ্ঠানে শেহনাইয়ের সুর শোনা যায়। এর মধুর ও আবেগঘন সুর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। কিংবদন্তি শিল্পী Bismillah Khan শেহনাইকে বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মর্যাদা এনে দিয়েছিলেন।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের গুরুত্ব আজও অটুট। এই বাদ্যযন্ত্রগুলো শুধু সুর সৃষ্টি করে না, বরং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করে নিয়ে চলেছে। ভারতীয় বাদ্যযন্ত্রগুলো আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। 




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File