দেশ

ISRO Chandrayaan 3 | প্রপালশন মডিউল থেকে বিচ্ছিন্ন হলো চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার! সময়ের আগেই চাঁদে নামতে পারে 'বিক্রম'!

ISRO Chandrayaan 3 | প্রপালশন মডিউল থেকে বিচ্ছিন্ন হলো চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার! সময়ের আগেই চাঁদে নামতে পারে 'বিক্রম'!
Key Highlights

১৭ই অগাস্ট ইসরোর চন্দ্রযান-৩ এর প্রপালশন মডিউল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ল্যান্ডার 'বিক্রম'। ৬ দিন বাদেই চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করবে এটি। আগামীকাল থেকেই শুরু অবতরণের প্রস্তুতি।

হাতে নেই আর এক হপ্তাও! স্বপ্নপূরণের আরও কাছে পৌঁছে গেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, ইসরোর তৈরি চন্দ্রযান ৩ (ISRO Chandrayaan 3)। আজ, ১৭ই অগাস্ট, বৃহস্পতিবার একক যাত্রা শুরু করলো 'বিক্রম'। এদিন প্রপালশন মডিউল (Propulsion Module) থেকে ছিন্ন হয়েছে চন্দ্রযান ৩-এর  ল্যান্ডার (Vikram Lander)।

ইসরো এদিন নিজস্ব এক্স হ্যান্ডেলে (X Handle) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ ল্যান্ডার বিক্রম প্রপালশন মডিউল থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার একক যাত্রা শুরু করেছে। এর আগেই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (Indian Space Research Organization) জানিয়েছিল, ১৭ই অগাস্ট ভারতীয় সময় ১টা থেকে ১.৩০টার মধ্যে এই বিছিন্ন হওয়ার কাজটি হবে। সেই অনুযায়ী, চন্দ্রকক্ষে ম্যানুয়েভর প্রক্রিয়া (Maneuver Process) সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রপালশন বিচ্ছেদের কাজটি শুরু হয়। আগামী বুধবারই চাঁদে নামতে বিক্রম। 

জানা যাচ্ছে, বক্স আকৃতির প্রপালশন মডিউলটিতে রয়েছে একটি অতিকায় সৌর প্যানেল ও একটি সিলিন্ডার। এর সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞান। এদিন বিক্রম 'ধন্যবাদ' জানিয়ে দিলেও এখানেই কিন্তু মূল মহাকাশযানের যাত্রা শেষ নয়। বিক্রম ও প্রজ্ঞান বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর প্রপালশন মডিউলটি কাজ করবে রিলে স্যাটেলাইট হিসেবে। ইসরো জানিয়েছে, ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ মূল মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর তার প্রাথমিক গন্তব্য হবে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার উপরের কক্ষপথে। সেখান থেকেই  ধাপে ধাপে তাকে নামানো হবে চাঁদের মাটিতে।

প্রসঙ্গত, এর আগে  ইসরোর চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2) অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়নি। তবে চন্দ্রযান-২ এর ক্ষেত্রেও এই 'বিছিন্ন' হওয়ার প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছিল। গোলযোগ বেধেছিল ল্যান্ডিংয়ের সময়। তাই আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আর যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়টি ক্রমাগত খতিয়ে দেখছে ইসরো। এবার ইসরোর চন্দ্রযান-৩ এ আছে একাধিক ইলেকট্রনিক এবং যান্ত্রিক সাবসিস্টেম। চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডিং সমস্যা থেকে শিক্ষা নিয়েই নেভিগেশন সেন্সর, প্রপালশন সিস্টেম, নির্দেশকেন্দ্র এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে আরও উন্নত প্রযুক্তিতে সাজানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ল্যান্ডারেও বেশ কিছু ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন এই ল্যান্ডারে একটির বদলে চারটি থ্রাস্টার রাখা হয়েছে। যাতে অবতরণের ধকল সইয়ে নিয়ে পালকের মতো মাটি ছুঁতে পারে বিক্রম। ল্যান্ডার বিক্রমের পাশাপাশি রোভারকেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে ডিজাইন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই, ল্যান্ডিংয়ের জন্য ৫০০ বর্গমিটারের বদলে ৪ কিমি x ২.৪ কিমি এলাকা বেচে নিয়েছে ইসরো। ল্যান্ডার বিক্রমে রাখা হয়েছে অতিরিক্ত জ্বালানিও। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ সে অগস্ট চাঁদের মাটি স্পর্শ করবে ইসরোর চন্দ্রযান-৩ এর ল্যান্ডার। গত ১৪ই জুলাই দুপুর ২টো ৩৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টারের (Satish Dhawan Space Center in Sriharikota) ‘লঞ্চিং প্যাড’ থেকে সফল উৎক্ষেপণ হওয়া ভারতের এই মহাকাশযান চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে নানান বিষয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখবে। অনেকের মতে, নির্ধারিত সময়ের আগে চাঁদে নেমে পড়তে পারে ‘বিক্রম’। কারণ, বিক্রম’কে চাঁদে নামানোর জন্য ইসরোর হাতে এখনও ছ’দিন সময় আছে। তবে বিচ্ছেদের পর অবতরণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত এত সময় লাগে না। ফলে আদৌ সময়ের আগে ইসরোর চন্দ্রযান-৩ অবতরণ করতে পারবে কি না সেই দিকেই নজর সবার।