Offbeat Places Near Darjeeling | চট করে 'চটকপুর'! নিরিবিলিতে প্রকৃতিকে কাছে পেতে কম দিনেই ঘুরে আসুন পাহাড়ের কোলে অবস্থিত নির্জন এই গ্রামে!

Monday, October 2 2023, 1:50 pm
highlightKey Highlights

দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গার মধ্যে উচ্চতম গ্রাম চটকপুর। চারিকিকে পাহাড়, সবুজের সঙ্গে এই গ্রাম থেকে দেখতে পারেন কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে মাউন্ট এভারেস্টও। রয়েছে সুন্দর সুন্দর চটকপুর হোমস্টে।


পুজোর পর থেকেই যেন পাহাড় টানে সকলকে। কয়েকদিনের ছুটি পাওয়া মানেই দার্জিলিং ঢু মেরে আসা। তবে 'পাহাড়ের রানী'তে দিন দিন যা ভিড় বাড়ছে তাতে আর নিরিবিলিতে ঘোরার মজা আর পাওয়া যায়না বললেই চলে। এই কারণের জন্যই সম্প্রতি সকলের পছন্দের ভ্রমণস্থল হয়ে উঠছে দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গা (Offbeat Places Near Darjeeling)। এই তালিকায় একাধিক জায়গা রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হলো চটকপুর (Chatakpur)। দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রাম শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড় ঘেরা, সবুজ। এখন থেকে নাকি আবার দেখা যায় মাউন্ট এভারেস্টও! দেখে নিন কীভাবে যাবেন পাহাড়ি এই ছোট্ট সুন্দর গ্রাম, চটকপুর (Chatakpur)-এ।

দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গার মধ্যে উচ্চতম গ্রাম চটকপুর
দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গার মধ্যে উচ্চতম গ্রাম চটকপুর

চটকপুর । Chatakpur :

Trending Updates

 উত্তরবঙ্গের কুয়াশা ঘেরা গ্রাম চটকপুর (Chatakpur)। সোনাদা পেরিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই গ্রাম। স্থানীয় লোকেরা বিশ্বাস করেন, চটকপুরের জঙ্গলে ঢাকা পাহাড়ে ঘুমিয়ে আছেন স্বয়ং ভগবান বুদ্ধ। অবশ্য এই বিশ্বাস কেনই বা থাকবে না? চারিদিকে পাহাড়, সবুজ, পাখির কোলাহল, সুন্দর নিরিবিলি এই গ্রামে একবার এলে মন আর চাইবে না ফিরতে। এই গ্রাম নাকি কয়েকবছর আগেও আত্মগোপন করে থাকত পাইন গাছের আদিম জঙ্গলের মাঝখানে। যার ফলে বর্তমানে এখানকার জনসংখ্যা কুড়িয়ে বাড়িয়ে ওই ১০০ জন মতো। তবে থাকা খাওয়াতে হবে না কোনোরকমের অসুবিধা। এখানে রয়েছে একাধিক চটকপুর হোমস্টে (Chatakpur Homestay)।

  দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গা সম্পর্কে আরও পড়ুন : সোনালী সকালে হিমালয়ের একাধিক শৃঙ্গচূড়া দেখতে পাবেন দাওয়াইপানিতে!

  দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গা (Offbeat Places Near Darjeeling)  এর মধ্যে উচ্চতম গ্রাম গুলির মধ্যে অন্যতম হলো চটকপুর। সিঞ্চল অভয়ারণ্যের অন্তর্গত সবুজে মোড়া এই গ্রাম। নিস্তব্ধতা, জঙ্গলময় পরিবেশ, বুনো গন্ধের শিহরন,নাম না জানা অসংখ্য পাখির কলতান,সরলতায় ভরপুর পাহাড়ি মানুষের আতিথেয়তা এখানকার মূল আকর্ষন চটকপুর। সমগ্র চটকপুর গ্রামটিকে দুটি অংশে ভাগ করা যায়- আপার চটকপুর ও লোয়ার চটকপুর। মোট ২৩ টি পরিবার এই গ্রামে বাস করেন। লোয়ার চটকপুরে রয়েছে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের বাংলো। আপার চটকপুরে একটি ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। এখান থেকেই বরফ ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘাকে উপভোগ করা যায়। চটকপুর হোমস্টে (Chatakpur Homestay) এর জানলার পর্দা সরালেই দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা। ভাগ্য ভালো থাকলে এবং আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে দেখতে পারেন মাউন্ট এভারেস্টও।

সোনাদা পেরিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই গ্রাম
সোনাদা পেরিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭৮০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই গ্রাম

চটকপুরে কী কী দেখতে পাবেন? । What to see in Chatakpur?

 চটকপুরে তথাকথিত সাইডসিইং হয়না। সেঞ্চল ফরেস্টের (Senchal Forest) মধ্য দিয়ে একটি জঙ্গল ট্রেক করা যায়। বুনো পথে চলতে চলতে, পাখির কলতানে বিহ্বল হয়ে হারিয়ে যেতে পারবেন এক নৈসর্গিক জগতে। এই জঙ্গলের মধ্যেই রয়েছে এক পোখরি বা লেক। এই জলাশয় স্থানীয় মানুষদের কাছে খুবই পবিত্র বলে মনে করা হয়। জঙ্গলের প্রাণীরা এখানে জল খেতে আসে। তাই পশু দেখার জন্য কালাপোখড়ি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে অল্প হেঁটে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন লাভার্স পয়েন্ট এবং সানরাইজ পয়েন্টে৷ তবে, চটকপুরের আসল মজা ভোরবেলা এবং সন্ধ্যার দিকে। পাইনের জঙ্গলের নীরবতার মধ্যে পাখির কলতান আপনার মন ভরিয়ে দেবে । ভাগ্যদেবতা সুপ্রসন্ন হলে অনেক অচেনা পাখিরও দেখা মিলতে পারে। এই গ্রাম থেকে দেখা যায় ‘ট্রেকারদের স্বপ্নরাজ্য’ সান্দাকফুর অপূর্ব দৃশ্য। এখান থেকে সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা এক অন্যরকম অনুভূতি দেবে নিশ্চিত। কমলা আলো যখন ধূসর সাদা পর্বতশৃঙ্গের ওপর পড়ে, সমস্ত পরিবেশ হয়ে ওঠে মায়াবী। চটকপুর থেকেই শুরু হয় অনেকগুলি ট্রেকিং রুট। যার মধ্যে একটি গিয়েছে টাইগার হিল পর্যন্ত।

পাহাড় থেকে নীচে তাকালে দেখা যায় জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি শহরের কিছু অংশ। গোটা দৃশ্যই যেন একটি ক্যানভাস। চটকপুর টাইগার হিলের থেকে এটি কোনও অংশে কম নয়। চাইলে সোনাদা হয়ে ঘুম মনাস্ট্রি যেতে পারেন। আবার জঙ্গলের পথ ধরে হেঁটে চলে যেতে পারবেন টাইগার হিল। তবে এক্ষেত্রে নিতে হবে গাইড। চটকপুরে সরকারি উদ্যোগে এখন অর্গানিক ফর্মিং হচ্ছে। পর্যটকরা গ্রামে হেঁটে দেখতে দেখতে কিনতে পারেন সব্জিও। আর কিছুই না করতে চাইলে হোমস্টের ঘরে বসে পাখির ডাকের মধ্যে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন করেই কেটে যাবে দু’টি দিন। 

 বুনো পথে চলতে চলতে, পাখির কলতানে বিহ্বল হয়ে হারিয়ে যেতে পারবেন এক নৈসর্গিক জগতে
 বুনো পথে চলতে চলতে, পাখির কলতানে বিহ্বল হয়ে হারিয়ে যেতে পারবেন এক নৈসর্গিক জগতে

চটকপুরে কীভাবে যাবেন ? । How to go to Chatakpur?

চটকপুর যেতে হলে প্রথমে কলকাতা থেকে ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি। এরপর গাড়ি ভাড়া করে সোজা চটকপুর। দার্জিলিং যাওয়ার পথে তিন মাইল মোড় থেকে সেনচাল অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে প্রায় ১২ কিলোমিটার। এই গ্রামে যাওয়া যায় সোনাদা থেকেও। দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার এবং সোনাদা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই গ্রাম৷ ঘুম, সোনাদা হয়ে যেতে হয় চটকপুরে।

দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার এবং সোনাদা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই গ্রাম
দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার এবং সোনাদা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই গ্রাম

চটকপুরে কখন যাবেন ? ।  When to go to Chatakpur?

চটকপুর ঘুরতে যাওয়ার আদর্শ সময় হল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। বর্ষার সময় ধস নামে, তাই সে সময় এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। কারণ ধ্বসের সম্ভবনা থেকে যায়। অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস উপযুক্ত সময় দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি এই অফবিট জায়গা (Offbeat Places Near Darjeeling) ঘুরে আসার জন্য। এই গ্রামে এলে সোয়েটার, জ্যাকেট, বুট সঙ্গে রাখবেন। বর্ষার সময় প্ল্যান করলে রেনকোট মাস্ট। তবে বর্ষার সময়টা এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। 

এই গ্রাম থেকে দেখতে পারেন কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে মাউন্ট এভারেস্টও
এই গ্রাম থেকে দেখতে পারেন কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে মাউন্ট এভারেস্টও

 দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি অফবিট জায়গা সম্পর্কে আরও পড়ুন : তিস্তার শীতল জল,সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা! ঘুরে আসুন 'অফবিট' পানবুদারায়!

উল্লেখ্য, চটকপুরের বাজেট অন্যান্য ভ্রমণের থেকে অনেকটাই আলাদা । চটকপুর হোমস্টে (Chatakpur Homestay) এর সংখ্যা রয়েছে ভালোই। তবে দু’জনের জন্য ইকো কটেজ রুমে থাকতে চান তাহলে খরচ পরবে ৩৫০০ টাকার মতো। আর যদি চটকপুর গ্রামের হোমস্টের (Chatakpur Homestay) মধ্যে থাকতে চান, তাহলে খরচ মাথাপিছু খরচ ১৫০০ টাকার কাছাকাছি। তবে আগে থেকে খোঁজ খবর নিয়ে যাওয়াই ভাল। চটকপুর ব্যস্ত নাগরিক জীবনের ক্লান্তি কাটানোর অন্যতম ডেসটিনেশন। মুক্ত প্রকৃতির অক্সিজেন, খোলা নীল আকাশ, চারদিকে সবুজ ও পাহাড়, সব মিলিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি দেবে চটকপুর। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড় ঘেরা ছোট্ট এই গ্রামে যদি প্রকৃতির খুব কাছে হারিয়ে যেতে চান, তবে একবার ঘুরে আসতেই পারেন চটকপুরে।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File