Narendra Modi | ভাদনগর থেকে বিশ্বমঞ্চ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে জানুন তাঁর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সফর!

Key Highlights১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য দিন। আজ ৭৬ বছরে পা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি (Modi Birthday)। স্বাধীন ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই একাধিক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৬ সালের ১০ জুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ৪,৩৯৯ দিন দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অতিক্রম করেন তিনি, যা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পূর্ববর্তী টানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। সাংগঠনিক রাজনীতিতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় এবং সরকার প্রধান হিসেবে প্রায় ২৫ বছর সম্পূর্ণ করার পর তাঁর এই জন্মদিন এক নতুন তাৎপর্য বহন করছে।
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অনন্য দিন। আজ ৭৬ বছরে পা দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি (Modi Birthday)। স্বাধীন ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই একাধিক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৬ সালের ১০ জুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ৪,৩৯৯ দিন দায়িত্ব পালনের ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান অতিক্রম করেন তিনি, যা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পূর্ববর্তী টানা দায়িত্ব পালনের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যায়। সাংগঠনিক রাজনীতিতে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় এবং সরকার প্রধান হিসেবে প্রায় ২৫ বছর সম্পূর্ণ করার পর তাঁর এই জন্মদিন এক নতুন তাৎপর্য বহন করছে।
আরও পড়ুন : মোদীর জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস, মহিলাদের স্বাবলম্বনে 'নতুন বাংলা'র বার্তা প্রধানমন্ত্রীর!
শৈশব, RSS ও রাজনীতির প্রারম্ভিক পাঠ-
১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর গুজরাতের মেহসানা জেলার ভাদনগরে এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। বাবা দামোদরদাস মোদি ও মা হীরাবেন মোদির সন্তান নরেন্দ্র মোদি শৈশবে পরিবারের চা বিক্রির কাজে সাহায্য করতেন।
বাড়ি ত্যাগ ও ভারত ভ্রমণ: ১৭ বছর বয়সে তিনি বাড়ি ছেড়ে বের হন এবং প্রায় দুই বছর দেশের নানা প্রান্ত ঘুরে আবার গুজরাতে ফেরেন।
RSS-এ যোগদান: আহমেদাবাদে ফিরে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (RSS) যোগ দেন এবং ১৯৭২ সাল থেকে প্রচারক হিসেবে পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাজ শুরু করেন।

গণতান্ত্রিক আন্দোলন: ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
BJP-তে উত্থান ও সাংগঠনিক দক্ষতা-
১৯৮৭ সালে গুজরাতে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোদির নতুন ইনিংস শুরু হয়।
নির্বাচনী সাফল্য: তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে আহমেদাবাদ পুরনিগম নির্বাচনে প্রথমবার জয় পায় BJP। এরপর ১৯৯০ ও ১৯৯৫ সালের গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে দল বড় সাফল্য অর্জন করে।
জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব: ১৯৯৫ সালে তিনি দলের জাতীয় সম্পাদক পদে উন্নীত হন এবং হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশের দায়িত্ব সামলান। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের লোকসভা নির্বাচনেও দলের মূল সাংগঠনিক ভূমিকায় ছিলেন তিনি, যার ফলে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত হয়।
গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থেকে 'গুজরাত মডেল'-
২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারি কচ্ছের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর, একই বছরের ৭ অক্টোবর গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)।
টানা চারবার মুখ্যমন্ত্রী: ২০০২ সালের রাজকোট-২ উপনির্বাচনে জয়ের পর মণিনগর কেন্দ্র থেকে লড়ে ২০০২, ২০০৭ এবং ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হন।

উন্নয়ন ও পরিবর্তন: ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত (১২ বছরেরও বেশি) তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল ছিলেন। পরিকাঠামো বিকাশ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কৃষি ও শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রবেশ এবং জনকল্যাণমূলক নীতি-
২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য BJP-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হন মোদি। বারাণসী ও বরোদা—দুই কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হন তিনি।
প্রথম মেয়াদ (২০১৪-২০১৯): ২০১৪ সালের ২৬ মে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) হিসেবে প্রথমবার শপথ নেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে চালু হয় ‘জন ধন যোজনা’, ‘স্বচ্ছ ভারত অভিযান’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘মন কি বাত’ রেডিও অনুষ্ঠান। তাঁর উদ্যোগেই রাষ্ট্রসংঘ ২১ জুনকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
দ্বিতীয় মেয়াদ (২০১৯-২০২৪): ২০১৯ সালে ৩০৩টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসেন। এই মেয়াদে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) পাস, দেশজুড়ে সফল কোভিড টিকাকরণ অভিযান, নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন এবং নয়াদিল্লিতে সফল G20 শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
তৃতীয় মেয়াদ (২০২৪-বর্তমান): ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে টানা তৃতীয়বার বারাণসী থেকে জিতে জওহরলাল নেহরুর পর টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) হওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করেন। বর্তমানে NDA জোট সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিশ্বমঞ্চে ভারত-
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে মোদির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। ভারতের নেতৃত্বে গঠিত ‘International Solar Alliance’ (ISA) থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের ‘Seoul Peace Prize’ জয়—সবক্ষেত্রেই ভারতের নাম উজ্জ্বল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্মাননা: ফ্রান্স, রাশিয়া, সৌদি আরব, মিশর, গ্রিসের মতো একাধিক দেশ তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ঘানা (Officer of the Order of the Star of Ghana), ত্রিনিদাদ ও টোবাগো (Order of the Republic) এবং স্লোভাকিয়া (Order of the White Double Cross) তাঁকে সম্মানিত করেছে।
পরীক্ষা পে চর্চা: শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের অনুপ্রেরণায় তিনি প্রতি বছর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে ‘Exam Warriors’ বইটিও রচনা করেছেন।

উপসংহার-
ভাদনগরের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও টানা দীর্ঘমেয়াদী নির্বাচিত জননেতা হয়ে ওঠার এই সফর ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০২৬ সালে তাঁর ৭৬তম জন্মদিনে সারা দেশজুড়ে সূচিত হয়েছে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ (Seva Sankalp Abhiyan PM Modi birthday)। একজন দূরদর্শী ও কর্মযোগী নেতা হিসেবে তাঁর এই যাত্রা বিশ্বজুড়ে ভারতের অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে পৌঁছে দিয়েছে।
- Related topics -
- দেশ
- ভারত
- নরেন্দ্র মোদি
- প্রধানমন্ত্রী
- জীবন ও জীবনী
- বিজেপি
- আরএসএস
- গুজরাট









