Republic Day 2026 | ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে একনজরে সাধারণতন্ত্রের সাতকাহন, জেনে নিন অজানা তথ্য

Key Highlightsপূর্ণ স্বরাজ আনার লক্ষ্যে ১৯২৯ সালে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে শপথ নেয় অবিভক্ত ভারতবাসী। পরের বছর ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধী দিনটির নাম দিয়েছিলেন, ‘স্বতন্ত্রতা সংকল্প দিবস’। সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন সারাদিন কর্তব্য পথে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কুচকাওয়াজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধের পরিবহন যান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়। এবারের ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের থিম হল, ‘বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর’ (150 Years of Vande Mataram)।
পূর্ণ স্বরাজ আনার লক্ষ্যে ১৯২৯ সালে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে শপথ নেয় অবিভক্ত ভারতবাসী। পরের বছর ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি দিনটিকে প্রথম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। মহাত্মা গান্ধী দিনটির নাম দিয়েছিলেন, ‘স্বতন্ত্রতা সংকল্প দিবস’। আসুন জেনে নিই প্রজাতন্ত্র দিবসের কিছু অজানা তথ্য।
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের কাছ থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বাধীনতা পায় ভারত। স্বাধীনতার প্রায় আড়াই বছর পর দেশের সংবিধান তৈরির কাজ কর্ম শুরু হয়। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যকর করা হয় দেশের সংবিধান। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি গভর্নমেন্ট হাউসের দরবার হলে স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ শপথগ্রহণ করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই ২৬ জানুয়ারিকে প্রজাতন্ত্র দিবস বা সাধারণতন্ত্র দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ভারতের সংবিধান: ভারতের সংবিধান পৃথিবীর দীর্ঘতম হাতে লেখা সংবিধান। যার মধ্যে ৪৪৮টি আর্টিকেল, ১২টি শিডিউল এবং ২৫টি অংশ রয়েছে। প্রথম দিকে সংবিধানের দুটো প্রতিলিপি ছিল। একটি হিন্দি ও অপরটি ইংরেজিতে। দুটো কপিই বর্তমানে ভারতের সংসদের গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে রয়েছে। ভারতীয় সংবিধানটি বিশ্বের অন্যতম সেরা লিখিত সংবিধান হিসাবেও প্রশংসিত। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি হাতে লেখা সংবিধানটি ছিলেন গণপরিষদের ২৮৪ জন সদস্য (১৫ জন মহিলাও ছিলেন)। এর দু’দিন পরে ২৬ জানুয়ারি তা কার্যকর হয়।

সংবিধানের মুদ্রণ এবং বৈশিষ্ট্য :
প্রখ্যাত ক্যালিগ্রাফিস্ট প্রেম বিহারী নারায়ণ রায়জাদা দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টায় এই বিপুল কাজটি একা হাতে সম্পন্ন করেন। বিনা পারিশ্রমিকে ক্যালিগ্রাফিতে ইট্যালিক স্টাইলে তিনি লিখেছিলেন সংবিধানটি। সংবিধানের প্রতিটি পৃষ্ঠার সৌন্দর্যায়ন এবং নিখুঁতভাবে সাজিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনের শিল্পীরা। মূল সংবিধান গ্রন্থটির ওজন ৩ কিলো ৭৫০ গ্রাম। আমাদের সংবিধানের মুখবন্ধটি (Preamble) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিল, যা ‘আমরা জনগণ’ (We the People) দিয়ে শুরু হয়। সর্বপ্রথম গৃহীত সংবিধানের ৩৯৫ টি আর্টিকেল এর ২৫০টিই ছিল ১৯৩৫ সালের গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট থেকে নেওয়া।
সাধারণতন্ত্র দিবস পালন :
প্রতি বছর কোনও একজন রাষ্ট্র প্রধান সাধারণতন্ত্র দিবসে প্রধান অতিথি হয়ে আসেন। ১৯৫০ সালে প্রথমবার এসেছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ। ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি কুচকাওয়াজ রাজপথের পরিবর্তে তৎকালীন এরউইন অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্টেডিয়ামটির পরে নাম হয় মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়াম। ১৯৫৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে রাজপথে তথা ‘কর্তব্য পথ’এ সামরিক কুচকাওয়াজ ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। জাতীয় সঙ্গীতের শুরু থেকে তোপের সেলামি দেওয়া শুরু হয় ও ৫২ সেকেন্ডে জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এরও পরিসমাপ্তি ঘটে। মোট ২১টি তোপের সেলামি দেওয়া হয়।
সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন সারাদিন কর্তব্য পথে প্রতিরক্ষা বাহিনীর কুচকাওয়াজ, অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, যুদ্ধের পরিবহন যান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ভারতের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শিত হয়। এবারের ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবসে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজের থিম হল, ‘বন্দে মাতরম এর ১৫০ বছর’ (150 Years of Vande Mataram)।
- Related topics -
- অন্যান্য
- প্রজাতন্ত্র দিবস
- সংবিধান
- ভারত









