Durga Puja 2026 | বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা: প্রাচীন সধবা প্রথা থেকে আধুনিক নারীর সাম্য ও সামাজিক ঐক্যের মেলবন্ধন!

Key Highlightsশরতের বিদায়বেলায় ঢাকের বিষাদময় বোল আর বিদায়ের সুর জানান দেয় দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকের যাত্রা শেষের সময় এসে গেছে। বিজয়া দশমী (bijaya dashami) মানেই একদিকে মাকে বিদায় জানানোর ভারাক্রান্ত মন, আর অন্যদিকে আপামর বাঙালির মিষ্টিমুখ ও নতুন শুরুর আনন্দ। আর এই দশমী (dashami)-র সবচেয়ে বর্ণময় ও তাৎপর্যপূর্ণ আচার হলো সিঁদুর খেলা (sindoor khela)। লাল-সাদা শাড়িতে সেজে নারীদের একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলার এই দৃশ্য কেবল একটি সামাজিক আচার নয়, বরং বাঙালির লোকসংস্কৃতির এক গভীর ও পরিবর্তনশীল সামাজিক অধ্যায়।
শরতের বিদায়বেলায় ঢাকের বিষাদময় বোল আর বিদায়ের সুর জানান দেয় দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকের যাত্রা শেষের সময় এসে গেছে। বিজয়া দশমী (bijaya dashami) মানেই একদিকে মাকে বিদায় জানানোর ভারাক্রান্ত মন, আর অন্যদিকে আপামর বাঙালির মিষ্টিমুখ ও নতুন শুরুর আনন্দ। আর এই দশমী (dashami)-র সবচেয়ে বর্ণময় ও তাৎপর্যপূর্ণ আচার হলো সিঁদুর খেলা (sindoor khela)। লাল-সাদা শাড়িতে সেজে নারীদের একে অপরকে সিঁদুরে রাঙিয়ে তোলার এই দৃশ্য কেবল একটি সামাজিক আচার নয়, বরং বাঙালির লোকসংস্কৃতির এক গভীর ও পরিবর্তনশীল সামাজিক অধ্যায়।

সিঁদুর খেলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঐতিহ্য!
ঐতিহ্যগতভাবে, সিঁদুর খেলা ছিল মূলত বিবাহিত নারীদের সধবা প্রথার অংশ। দেবী দুর্গাকে মর্ত্যের কন্যা হিসেবে গণ্য করে বিজয়া দশমীর দিন তাকে বরণ করা হয়। প্রথা অনুযায়ী, ঘরের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে তাকে মিষ্টিমুখ করানো, পানের পাতা ও প্রদীপ দিয়ে আরতি করা এবং তার চরণে ও সিঁথিতে সিঁদুর ছোঁয়ানো হয়।
বিশ্বাস করা হতো যে, দেবীকে বরণ করে নারী সমাজ পরস্পরের মাথায় ও গালে সিঁদুর ছুঁইয়ে দিলে স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার পাশাপাশি সংসারের মঙ্গল সাধিত হয়। শত শত বছর ধরে রাজবাড়ি ও প্রাচীন জমিদারবাড়ি থেকে শুরু করে পাড়ার মণ্ডপ পর্যন্ত এই ঐতিহ্যবাহী নিয়ম অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়ে আসছে।

প্রথার পরিবর্তন: নারী শক্তি ও লিঙ্গসাম্যের প্রতীক
আধুনিক যুগে এসে এই ঐতিহ্যবাহী প্রথায় এসেছে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। অতীতে যা কেবল বিবাহিত বা সধবা নারীদের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা আজ আর নির্দিষ্ট কোনো সামাজিক পরিচয়ে আবদ্ধ নেই।
- আজকের দুর্গাপুজো (durga puja celebration)-য় সিঁদুর খেলা হয়ে উঠেছে নারীত্বের সামাজিক উদযাপন ও নারী শক্তির মেলবন্ধন:
- সর্বজনীন অংশগ্রহণ: অবিবাহিত তরুণী, বিধবা, একাকী নারী, এমনকি তৃতীয় লিঙ্গের (Transgender) মানুষও আজ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিজয়া দশমীর এই রঙ্গে অংশ নেন।
- সামাজিক বাঁধ ভাঙার মেলবন্ধন: সামাজিক সংস্কার ও পুরোনো ছুঁতমার্গকে পেছনে ফেলে আধুনিক সমাজে এটি বৈষম্যহীন ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
- সহমর্মিতা ও ঐক্যের প্রতীক: সিঁদুরের রক্তিম রঙ এখন আর শুধু কোনো নারীর ব্যক্তিগত বৈবাহিক অবস্থা বোঝায় না, বরং তা নারীদের পারস্পরিক ঐক্য, শক্তি ও সহমর্মিতার বার্তা বহন করে।

দুর্গাপুজো (durga puja festival) আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তির জয় এবং সামাজিক সম্প্রীতি। সিঁদুর খেলার এই আধুনিক রূপটি প্রমাণ করে যে, ঐতিহ্যের মূল চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রেখেও সময়ের প্রয়োজনে প্রথার ইতিবাচক সংস্কার সম্ভব। বিজয়া দশমীতে নারীর এই যৌথ আনন্দ প্রকাশ সমাজকে অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) ও লিঙ্গসাম্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।দেবী দুর্গার বিসর্জনের পর সেই সিঁদুরের রঙে রাঙা মুখগুলো যেন এই বার্তাই দিয়ে যায়—উৎসবের আনন্দ সবার জন্য উন্মুক্ত এবং নারী শক্তিই সমাজের মূল চালিকাশক্তি।
- Related topics -
- অন্যান্য
- পুজো ও উৎসব
- দুর্গাপুজো








