লাইফস্টাইল

Tech Neck Syndrome | সর্বক্ষণ ঘাড় গুঁজে মোবাইলের পর্দায় তাঁকিয়ে? এক্ষুণি অভ্যাস না বদলালে হতে পারে 'টেক-নেকে'র সমস্যা!

Tech Neck Syndrome | সর্বক্ষণ ঘাড় গুঁজে মোবাইলের পর্দায় তাঁকিয়ে? এক্ষুণি অভ্যাস না বদলালে হতে পারে 'টেক-নেকে'র সমস্যা!
Key Highlights

দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে ঘাড় গুঁজে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে থাকলে হতে পারে টেকনেকের সমস্যা। এই অসুখে মেরুদণ্ড চিরতরে বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, ঘাড়-গলার হাড় ও স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে তা চিরতরে ঝুঁকিয়ে দিতেও পারে।

ডিজিটাল যুগে কমবেশি সকলেই ইনের বেশিভাগ সময়টা কাটান মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ঘেটে। এতে যেমন চোখের ওপর এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পরে তেমনই প্রভাব পরে ঘাড়েও। কাজের জন্য হোক কিংবা আসক্তি, যারা দিনের ৭-৮ ঘন্টা ঘাড় নিচু করে মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন তাদের অধিকাংশই  ঘাড় ব্যথা অনুভব করে থাকেন। অনেকেই ভাবেন এই ব্যথা এক জায়গায় বসে থাকার জন্য বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমনোর জন্য হয়।  কিন্তু চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এর কারণ 'টেক নেক' (tech neck)।  এই অসুখে মেরুদণ্ড চিরতরে বেঁকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই-ই নয়, ঘাড়-গলার হাড় ও স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে তা চিরতরে ঝুঁকিয়ে দিতেও পারে। এই অসুখ এত দ্রুত দেশের সব প্রান্তেই কম-বেশি ছড়িয়ে পড়ছে যে, এখনই সাবধান না হলে এই অসুখ পঙ্গুত্বও ডেকে আনবে বলে মত চিকিৎসকমহলের।

টেক-নেক । Tech-Neck :

বর্তমানে প্রতিটি কাজেই সঙ্গী হয় মোবাইল ফোন অথবা ল্যাপটপ। বাসে-ট্রেনে-ট্রামে, ঘরোয়া আড্ডায় সর্ব ক্ষণ ঘাড় গুঁজে মোবাইলের পর্দায় তাকিয়ে থাকা যেন জীবনচর্চায় পরিণত হয়েছে। তবে এর হাত ধরেই নতুন অসুখ হানা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে লাগাতার ঘাড় ব্যথা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ঘাড় ব্যথা ডাক্তাররা (neck pain doctor) বলছেন, এই ধরণের সমস্যাকে 'টেক-নেক' বা টেক নেক সিনড্রোম বা বলে।

 লক্ষণ :

  • ঘাড়ের নীচে এবং উপরের অংশে ব্যথা এবং অস্বস্তি।
  • মাথা ঘোরা, দুর্বলতা।
  • ঘাড়ের পেশির নমনীয়তা কমে যাওয়া, ঘাড় ঘোরাতে সমস্যা হওয়া।
  • ভার্টিগো, বমি বমি ভাব।

 দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব :

  • টেক নেক উপসর্গগুলি উপেক্ষা করা আরও গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে যেমন:
  • ডিজেনারেটিভ ডিস্ক রোগ
  • স্পাইনাল আর্থ্রাইটিস
  • স্নায়ু সংকোচন
  • পেশী ভারসাম্যহীনতা
  • ফুসফুসের ক্ষমতা হ্রাস
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

ঘাড় ব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার । Home Remedies for Neck Pain :

ঘাড় ব্যথা ডাক্তাদের (neck pain doctor) কাছে যে রোগীরা যান, তাঁদের অধিকাংশই পিঠে ব্যথা, ঘাড়ে ব্যথা, গাঁটে ব্যথা কিংবা হাতের ব্যথায় ভুগে থাকেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারই এই সমস্যার মূলে। দিনের অনেকটা সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে হাতের পেশি ও লিগামেন্টের উপর চাপ পড়ে। দীর্ঘ দিন এমনটা হতে থাকলে সেই ব্যথা মেরুদণ্ডের উপরেও প্রভাব ফেলে। মেরুদণ্ড বেঁকেও যেতে পারে। অনেকেই আবার এই উপসর্গগুলিকে বাতের ব্যথার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। অনেকেই ভাবেই এই ধরণের ঘাড়ের ব্যথা কমাতে ঘাড় ব্যথা ব্যান্ড (neck pain band) বা ঘাড় ব্যথা বেল্ট (neck pain belt) ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন বেশ কিছু ঘাড় ব্যথার ঘরোয়া প্রতিকার (Home Remedies for Neck Pain) রয়েছে যা ঘাড় ব্যথা ব্যান্ড (neck pain band) বা ঘাড় ব্যথা বেল্ট (neck pain belt) ব্যবহারের থেকেও বেশি উপকার দেবে, যেমন-

স্ক্রিনের উচ্চতা সামঞ্জস্য করুন : আপনি যখন ডেস্কটপ, ল্যাপটপ বা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন তার স্ক্রিন যেন আপনার চোখের সঙ্গে সমান উচ্চতা স্টোরে থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে। এই বিষয়টি মাথায় রাখলেই ঘাড় উঁচু বা নিচু করতে হবে না এবং ব্যথাও কমবে।

২০-২০-২০ নিয়ম অনুসরণ করুন: প্রতি ২০মিনিটে, ২০ফুট দূরত্বে স্ক্রিন রেখে দেখুন এবং ২০-সেকেন্ড বিরতি নিন। এটি চোখের চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং আপনার ঘাড়কে একই অবস্থানে থাকা থেকে বিরতি দেয়।

 ভঙ্গি উন্নত করুন :একটি নিরপেক্ষ মেরুদণ্ডের অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন হন। মেরুদন্ড সোজা করে বসুন।

স্ক্রীন টাইম সীমিত করুন : আপনার ডিভাইসে ব্যয় করার পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হন। নিজের জন্য সীমা নির্ধারণ করুন এবং স্ক্রিন টাইম জড়িত নয় এমন ক্রিয়াকলাপগুলি গ্রহণ করুন।

টেক্সট করা কমান : মোবাইলে মেসেজ করার পরিমাণ কমাতে হবে। প্রয়োজনে ফোনে কথা বলুন।

মোবাইল যেন ভারী না হয় : মোবাইল কেনার সময়ে লক্ষ রাখবেন মোবাইলটি যেন খুব ভারী না হয়। ভারী মোবাইল হাতে থাকলে পেশির উপর বেশি চাপ পড়ে। তাই কেনার আগে মোবাইলের ক্যামেরা, মেমোরির পাশাপাশি গ্যাজেটের ওজনের দিকেও নজর রাখতে হবে।

স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন :একটি মোবাইল স্ট্যান্ড কিনতে পারেন। তার উপর মোবাইটি রেখে ব্যবহার করলে সমস্যা কম হবে।

ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ় : ঘাড়ের ব্যথা কমাতে  কয়েকটি ‘ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ়’ করতে পারেন। সর্বোপরি মেরুদণ্ডের সংলগ্ন পেশি সচল রাখতে নিয়ম করে কিছু যোগাসন করতেই হবে। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে শরীরচর্চা না করে উপায় নেই।

রোগা হবেন বলে জিমে গিয়ে খুব কসরত করছেন। অত্যধিক পরিশ্রমের জেরে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় বাড়ির সমস্ত কাজ এক দিনে করলেন। তার পরেই দেখলেন ঘাড়ের যন্ত্রণা শুরু হয়ে গিয়েছে। আবার একটানা গাড়ি চালালেও ঘাড়ের পেশির উপর চাপ পড়ে। এতেও ঘাড়ের যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। মানসিক চাপ বাড়লেও ঘাড়ের যন্ত্রণা বাড়ে। উদ্বেগ, অবসাদের মতো মানসিক অবস্থা ঘাড়ের পেশির উপর চাপ সৃষ্টি করে। অনেক সময় রক্তচাপ বেড়ে গেলেও ঘাড়ের যন্ত্রণা শুরু হয়। এক্ষেত্রে মানসিক চাপকে কমানোর চেষ্টা করুন।