Netaji Subhas Chandra Bose | বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি নেতাজির! দেশনায়কের জীবনে রয়েছে পরতে পরতে রহস্য, এক ঝলকে সেরা আট

Friday, January 23 2026, 2:06 pm
Netaji Subhas Chandra Bose | বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি নেতাজির! দেশনায়কের জীবনে রয়েছে পরতে পরতে রহস্য, এক ঝলকে সেরা আট
highlightKey Highlights

শুধু মৃত্যু নয় সুভাষের জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নানা জানা অজানা কাহিনী। আসুন জেনে নিই সেরকমই কিছু তথ্য।


আজ, ২৩ জানুয়ারি বরেণ্য দেশনেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) ১২৯তম জন্মবার্ষিকী। প্রায় এক বার্ষিকী পেরিয়েও আজও নেতাজি ভারতীয় যুব সমাজের অনুপ্রেরণা। তিনি ভারতের সেই মহান স্বতন্ত্র সেনানীদের একজন যাঁর মৃত্যু নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। শুধু মৃত্যু নয় সুভাষের জীবনের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে নানা জানা অজানা কাহিনী। আসুন জেনে নিই সেরকমই কিছু তথ্য।

নেতাজির জন্ম ও পরিবার : ২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭ সালে ওড়িশার কটকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। বাবা জানকীনাথ বসু ও মা প্রভাবতী দেবীর নবম সন্তান তিনি। ৬ জন দিদি ও ৭ ভাই ছিল।

Trending Updates

শিক্ষা : তিনি প্রাথমিক পড়াশোনা করেছিলেন কটকের র‌্যাভেনশা কলেজিয়েট স্কুল থেকে। এরপর তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি নিতে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সিভিল সার্ভিস পাশও করেছিলেন তিনি।

ইংরেজদের চাকরি নিতে অস্বীকার : ১৯২০ সালে নেতজি ইংল্যান্ডে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাস করেন। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর দেশকে ইংরেজদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান।

নেতাজি বনাম মহাত্মা গান্ধী : কংগ্রেসে মহাত্মা গান্ধী উদার দলের নেতৃত্বে ছিলেন। অন্যদিকে সুভাষচন্দ্র ছিলেন আবেগপ্রবণ বিপ্লবী দলের মানুষ। দুই রাষ্ট্রনেতার আদর্শ এবং বিচার আলাদা হওয়ায় বহুবার তাঁদের সম্মুখ সমরে পড়তে হয়। নেতাজি মনে করতেন যে ইংরেজদের ভারত থেকে তাড়াতে হলে শক্তিশালী বিপ্লবের প্রয়োজন। অন্যদিকে গান্ধী অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন।

কংগ্রেস ত্যাগ করেন নেতাজি : ১৯৩৮ সালে নেতাজিকে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কংগ্রেসের অধ্যক্ষ পদে বসেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় যোজনা আয়োগ গঠন করেন। ১৯৩৯ সালে কংগ্রেস অধিবেশনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু গান্ধীজির সমর্থনে দাঁড়ানো পট্টাভী সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে জয়ী হন। এর ফলে গান্ধী ও তাঁর মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়। এই বিবাদের পরে নেতাজি নিজেই কংগ্রেস ত্যাগ করেন।

নেতাজির পরিবার : ১৯৩৭ সালে নিজের সেক্রেটারি ও অস্ট্রেলিয়ার যুবতী এমিলিকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের মেয়ে অনিতা বর্তমানে নিজের পরিবারের সঙ্গে জার্মানিতে থাকেন।

আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন : ভারতকে ইংরেজের হাত থেকে মুক্ত করতে ১৯৪৩ সালের ২১ অক্টোবর '‌আজাদ হিন্দ সরকার'‌ এবং  '‌আজাদ হিন্দ সেনা'‌ গঠন করেন। নিজের সেনা নিয়ে তিনি ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই বর্মা (‌এখন মায়ানমার)‌ পৌঁছান। এখানেই তাঁর বিখ্যাত স্লোগান দেন তিনি= '‌তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাকে স্বাধীনতা দেব'‌ বলেছিলেন।

নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য‌ : নেতাজির মৃত্যু নিয়ে এ,এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। ১৯৪৫ সালের ১৮ অগাস্ট তাইপেইতে একটি বিমান দুর্ঘটনার পর নেতাজি নিখোঁজ হয়ে যান। তারপরেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তবে এই যুক্তি মানেননা তাঁর পরিবার। তাঁরা মনে করেন উত্তরপ্রদেশের সন্ন্যাসী ভগবানজি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ছিলেন ৷

এই বিষয়ে নেতাজির নাতি আর্য বসু বলেন, "আমরা কেউই বিশ্বাস করি না বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে ৷ সুভাষচন্দ্র বসুরা সাত ভাই ছিলেন ৷ সেই বড় পরিবারে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠার সময়ে শুনেছি, জেনেছি বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছে বলে কেউ বিশ্বাস করতেন না ৷ বাবা তো করতেনই না ৷ কাকা শিশির বসুও করতেন না ৷"

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে, প্রধানমন্ত্রী মোদী সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে সম্পর্কিত ১০০টি গোপন ফাইলের একটি ডিজিটাল সংস্করণ প্রকাশ করেছিলেন, যেগুলি দিল্লির জাতীয় আর্কাইভে রয়েছে। সকলেই গিয়ে তা দেখতে পারেন।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File