JM Road | ৫০ বছর পরেও রাস্তায় নেই বড় কোনও গর্ত, জানুন পুনের জে এম রোডের অবিশ্বাস্য ইতিহাস ও দুই পার্সি ভাইয়ের সততার কাহিনী!

Monday, July 20 2026, 11:19 am
JM Road | ৫০ বছর পরেও রাস্তায় নেই বড় কোনও গর্ত, জানুন পুনের জে এম রোডের অবিশ্বাস্য ইতিহাস ও দুই পার্সি ভাইয়ের সততার কাহিনী!
highlightKey Highlights

আজকের দিনে বর্ষা এলেই ভারতের প্রায় প্রতিটি শহরের রাস্তাঘাটের কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে। নতুন তৈরি পিচের রাস্তা কয়েকটা বৃষ্টির ঝাপটা সহ্য করতেই পারে না; চারপাশ ভরে যায় বিপজ্জনক খানাখন্দে (potholes)। কিন্তু এই চেনা ছবির একেবারে উল্টো এক বিস্ময়কর উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুনে শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা জে এম রোড (Jangli Maharaj Road)। দীর্ঘ ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই রাস্তায় আজ পর্যন্ত কোনো বড় গর্ত বা খানাখন্দ তৈরি হয়নি। কীভাবে এটি সম্ভব হলো? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দুই পার্সি ভাইয়ের সততা, অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এক অদ্ভুত প্রশাসনিক ট্র্যাজেডির গল্প।


আজকের দিনে বর্ষা এলেই ভারতের প্রায় প্রতিটি শহরের রাস্তাঘাটের কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে। নতুন তৈরি পিচের রাস্তা কয়েকটা বৃষ্টির ঝাপটা সহ্য করতেই পারে না; চারপাশ ভরে যায় বিপজ্জনক খানাখন্দে (potholes)। কিন্তু এই চেনা ছবির একেবারে উল্টো এক বিস্ময়কর উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পুনে শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা জে এম রোড (Jangli Maharaj Road)। দীর্ঘ ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও এই রাস্তায় আজ পর্যন্ত কোনো বড় গর্ত বা খানাখন্দ তৈরি হয়নি। কীভাবে এটি সম্ভব হলো? এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দুই পার্সি ভাইয়ের সততা, অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এক অদ্ভুত প্রশাসনিক ট্র্যাজেডির গল্প।

জে এম রোড (JM Road): পুনের এক জীবন্ত বিস্ময়

১৯৭৪ সালে এই রাস্তাটি তৈরির কাজ শুরু হয় এবং ১৯৭৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি পুনে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (PMC) কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রায় ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি আজও পুনের অন্যতম সেরা এবং মসৃণ রাস্তা হিসেবে পরিচিত।

Trending Updates

সাধারণত যেখানে ভারতের সাধারণ পিচের রাস্তা ২ থেকে ৩ বছরও ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে না, সেখানে বিগত ৫০ বছর ধরে পুনের ভারী ট্রাফিক এবং প্রতি বছরের প্রবল বর্ষা সহ্য করে এই রাস্তাটি এক চুলও নড়েনি। কোনো ধরনের বড় মেরামত ছাড়াই এটি আজ এক প্রকৌশলগত বিস্ময় (Engineering Marvel)।

পর্দার পেছনের কারিগর: রেকোন্ডো ব্রাদার্স (Recondo Brothers)

এই ঐতিহাসিক ও মজবুত রাস্তাটি নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন মুম্বাইয়ের দুই পার্সি ভাই, যাঁরা 'রেকোন্ডো ব্রাদার্স' (Recondo Brothers) নামে একটি নির্মাণ সংস্থার মালিক ছিলেন। তৎকালীন দূরদর্শী পুনে প্রশাসনের বিশেষ আমন্ত্রণে তাঁরা এই রাস্তা তৈরির দায়িত্ব নেন। তাঁদের কাজের মূল ভিত্তি ছিল— চরম সততা, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং কাঁচামালের গুণগত মানের ওপর কোনো আপস না করা। তাঁরা এমন এক রাস্তা উপহার দিতে চেয়েছিলেন যা যুগের পর যুগ টিকে থাকবে।

কীভাবে তৈরি হয়েছিল এই অজয় রাস্তা?

জে এম রোড তৈরির পেছনে রয়েছে দারুণ বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা:

  • পরিকল্পিত ড্রেনেজ ও ইউটিলিটি লাইন: রাস্তা খোঁড়ার প্রধান কারণ হলো জল ও বিদ্যুতের পাইপলাইন মেরামত। রেকোন্ডো ব্রাদার্স সমস্ত ইউটিলিটি ও ড্রেনেজ লাইন রাস্তার নিচে না রেখে ফুটপাতের নিচে সরিয়ে নেন। ফলে রাস্তা বারবার খোঁড়ার প্রয়োজনই পড়েনি।
  • উন্নত মানের উপাদানের মিশ্রণ: পিচ ও পাথরের এমন এক নিখুঁত ও বৈজ্ঞানিক মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছিল, যা জল নিষ্কাশনে অত্যন্ত দক্ষ এবং ভারী যানবাহনের চাপ অনায়াসে সহ্য করতে পারে।
  • ১০ বছরের লিখিত গ্যারান্টি: সচরাচর কোনো ঠিকাদার রাস্তার স্থায়িত্বের গ্যারান্টি দিতে চান না। কিন্তু এই দুই ভাই আত্মবিশ্বাসের সাথে রাস্তাটির ১০ বছরের সম্পূর্ণ লিখিত ওয়ারেন্টি দিয়েছিলেন। যদিও সেই ১০ বছর পেরিয়ে আজ ৫০ বছরে পা দিচ্ছে, অথচ রাস্তাটি এখনো অটুট!

পুরস্কারের বদলে এক অদ্ভুত নিয়তি!

এই গল্পের সবচেয়ে বড় এবং দুঃখজনক মোড় হলো এটিই। যে ঠিকাদাররা পুনে শহরের বুকে এমন এক ঐতিহাসিক এবং টেকসই রাস্তা তৈরি করে দিলেন, তাঁদের পরবর্তীতে আর কোনো সরকারি কাজের চুক্তি বা টেন্ডার দেওয়া হয়নি।

জনশ্রুতি এবং বিভিন্ন মহলের আলোচনা অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থায় রাস্তা বারবার নষ্ট হলে তবেই নতুন বাজেট পাস হয় এবং পুনরায় কাজের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু রেকোন্ডো ব্রাদার্সের তৈরি রাস্তা এতটাই নিখুঁত ছিল যে সেখানে কোনো মেরামতের সুযোগই ছিল না। ফলস্বরূপ, সততা এবং নিখুঁত কাজের পুরস্কার হিসেবে তাঁরা পরবর্তী সময়ে আর কোনো টেন্ডার পাননি।

পুনের জে এম রোড প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা ও সততা থাকলে ভারতেই এমন রাস্তা তৈরি সম্ভব যা দশকের পর দশক ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই টিকে থাকতে পারে। আজকের দিনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে যে রাস্তা তৈরি হয়, তা কয়েক মাসের বৃষ্টিতেই ধুয়ে যায়। জে এম রোড আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে কাজের গুণগত মান ও দেশপ্রেমই পারে টেকসই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে। পরবর্তী সময়ে আপনি যখনই পুনের বুক চিরে চলে যাওয়া মসৃণ জে এম রোড দিয়ে যাবেন, তখন অবশ্যই মনে মনে শ্রদ্ধা জানাবেন সেই দুই পার্সি ভাইকে, যাঁরা কাজের মানের সাথে কোনো আপস করেননি।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File