Sukanna Mandal Arrested By ED | অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মন্ডলকে গ্রেফতার ইডির! হাতে এলো জমি সংক্রান্ত নথি!
তদন্তে অসহযোগিতা করার অভিযোগে কেষ্ট কন্যা সুকন্যাকে গ্রেফতার করল ইডি। অনুব্রত ও সুকন্যাকে মুখোমুখি বসিয়ে করা হতে পারে জিজ্ঞাসাবাদ। সুকন্যার সম্পত্তি নিয়ে ইডির হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
বাবার পর গ্রেফতার মেয়ে। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে এবং ইডির (ED) প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার কারণে অবশেষে অনুব্রত মন্ডলের (Anubrata Mandal) মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলকে (Sukanna Mandal) গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। এদিন রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টে সুকন্যার বিরুদ্ধে ইডি-র বড় হাতিয়ার হতে চলেছে সুকন্যা ও তার বাবার ঘনিষ্ঠদের বয়ানই।
সূত্রের খবর, আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন সুকন্যা। এমনকি আর্থিক লেনদেনে সরাসরি যুক্তও ছিলেন অনুব্রত-কন্যা। ইডি-র দাবি, তদন্ত করে দেড়শো - দু’শো ব্যাঙ্কে নগদ জমার রসিদ পাওয়া যায়। প্রায় ১০ কোটি নগদ জমা পরে ব্যাঙ্কে। কখনও অনুব্রতর পরিচারক আবার কখনও রাঁধুনি বা সুকন্যার গাড়ি চালকরা বিভিন্ন সময়ে ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা জমা করেছেন। কে টাকা পাঠিয়েছে জানতে চাইলে তারাই নাম করেন সুকন্যার।
ইডি সূত্রে আরও খবর, গরু পাচার মামলার টাকায় বহু জমি কিনেছিলেন অনুব্রত মন্ডল। বোলপুরের নীচুপট্টি এলাকায় কেনা হয়েছিল ১০টি জমি। তদনকারী দল জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম জমি কেনা হয়েছিল অনুব্রত মণ্ডলের মেয়ের নামে। সুকন্যার নামে দ্বিতীয় জমি কেনা হয় চলতি বছর ৩১ অক্টোবর। এরপর তৃতীয় এবং চতুর্থ জমি কেনা হয় ২০১৪ সালের ৩ নভেম্বর মাসে। এভাবে একের পর এক জমি কিনে সেগুলির মালিক হন অনুব্রত কন্যা। ইডি-র দাবি, ২০১৪ সালে কেবল নভেম্বর মাসেই আরও ৫টা জমি কেনা হয় সুকন্যা মন্ডলের নামে। কিন্তু এই সমস্ত জমির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে কিছুই বলেন না সুকন্যা।
গরু পাচার মামলা ছাড়াও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগেও বারবার নাম উঠে এসেছিলো অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্নীতি করে টেট (TET) ফেল করেও বোলপুরের কালিকাপুরে বাড়ির অদূরেই এক প্রাইমারি স্কুলে সহকারী শিক্ষিকার পদে চাকরি পান সুকন্যা। এখানেই অভিযোগ শেষ নয়, চাকরি পাওয়ার পর স্কুলে না গিয়েই তার বিশেষ সুবিধার জন্য বাড়িতেই পৌঁছে যেত হাজিরার খাতা। বাড়িতে বসেই স্কুলের রেজিস্টারে সই করে হাজিরা দিতেন সুকন্যা মন্ডল। সুকন্যা মন্ডলের চাকরি দুর্নীতির বিরুদ্ধে গোটা বিষয়টি নিয়েই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta Highcourt) দ্বারস্থ হন সৌমেন নন্দী নামে এক চাকরিপ্রার্থী। পরে এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাইকোর্টের নির্দেশে আদালতে হাজিরা দিতে হয় সুকন্যা মণ্ডলকে। এছাড়াও অনুব্রত এবং তাঁর হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও সুকন্যাকে তলব করে ইডি।
দুর্নীতি মামলার প্রেক্ষিতে ও পরপর তৃণমূল নেতাদের অবাধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত কাণ্ডে ইডির স্ক্যানারে উঠেছে এসেছে সুকন্যা মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তি। জানা গিয়েছে, সুকন্যার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কোটি কোটি টাকা। অথচ যার কোনও হিসেবে পায়নি ইডি। এই প্রসঙ্গে তদন্তের জন্য দিল্লিতে ২৬ এপ্রিল, বুধবার সুকন্যা মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে ইডি আধিকারিকরা। কিন্তু তদন্তে সহযোগিতা করেন না সুকন্যা। এমনকি গোয়েন্দাদের প্রশ্নের মুখে তথ্য এড়িয়ে যাওয়া, তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার মতো অভিযোগ ওঠে অনুব্রত কন্যা সুকন্যা মন্ডলের বিরুদ্ধে, যার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয় ইডি। জানা গিয়েছে, সুকন্যা মণ্ডলকে আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আরজি জানাবে ইডি। অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়েও সুকন্যাকে জেরা করা হতে পারে বলেও খবর।
- Related topics -
- রাজ্য
- অনুব্রত মন্ডল
- সুকন্যা মন্ডল
- চাকরি দুর্নীতি
- ইডি