কর্নফ্লাওয়ার অর্থ কি ? কর্নফ্লাওয়ার এর উপকারিতা | Benefits of Cornflower in Bengali

Monday, April 18 2022, 3:19 am
highlightKey Highlights

আজ আমরা জেনে নেবো কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে কি কি বানানো যায়, কর্নফ্লাওয়ার কেন ব্যবহার করা হয়, এর পুষ্টিগুণ ও দেখে নেবো কিছু কর্নফ্লাওয়ার এর ছবি ।


রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি সামগ্রী হল  কর্নফ্লাওয়ার। নানা ধরনের মুখরোচক রান্না বিশেষ করে চায়নিজ খাবার তৈরি করতে এটি সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শুধু রান্নার কাজে বা খাবার মুচমুচে করার ক্ষেত্রে নয় যে কোন ছোট খাটো সমস্যার সমাধান নিমিষেই করে দিতে পারে কর্নফ্লাওয়ার। এতে ২২ গ্রাম শর্করা, ৩ গ্রাম প্রোটিনে মোট ১১০ ক্যালরি উপস্থিত। এছাড়া ২৯ গ্রামের মধ্যে ২ গ্রাম ফাইবার এবং ১.৫ গ্রাম ফ্যাট ও এতে থাকে।

কর্নফ্লাওয়ার এর বাংলা অর্থ কি
কর্নফ্লাওয়ার এর বাংলা অর্থ কি

কর্নফ্লাওয়ার অর্থ কি ? Meaning of Cornflour in Bangla

ভুট্টা চূর্ণ বা ভুট্টার গুঁড়োকে আমরা সাধারণভাবে কর্নফ্লাওয়ার বলে থাকি। কর্নফ্লাওয়ার ভুট্টার সম্পূর্ণ শাঁস থেকে নেয়া হয়, যাতে ফাইবার, প্রোটিন, স্টার্চসহ, ভুট্টার যাবতীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর। 

কর্নফ্লাওয়ার এর ছবি, কর্নফ্লাওয়ার পাউডার

কর্নফ্লাওয়ার এর ছবি
কর্নফ্লাওয়ার এর ছবি
কর্নফ্লাওয়ার পাউডার
কর্নফ্লাওয়ার পাউডার

কর্নফ্লাওয়ার এর উপকারিতা ? কর্নফ্লাওয়ার এর ব্যবহার ( Benefits & Usage of Cornflour in Bangla )

তেলাপোকা জনিত ঝামেলা থেকে মুক্তি

তেলাপোকার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় কমবেশি সকলকেই ।এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে সমান পরিমাণের কর্ণফ্লাওয়ার ও প্লাস্টার অফ প্যারিস এক সাথে মিশিয়ে নিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিয়ে   তেলাপোকার  লুকোনোর জায়গা গুলিতে কর্নফ্লাওয়ার দিয়ে রাখলে পোকার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া ঘরের মেঝেতে, দরজার কোণায় উপদ্রবকারী  অন্যান্য পোকামাকড়ের বাসা থাকলে ,বাসার মুখ এই পেস্ট দিয়ে বন্ধ করে দিলে পোকা জনিত সমস্যার সমাধান হতে পারে।

জানলার  কাঁচ পরিষ্কার ও ঝকঝকে করতে

জানালার কাঁচ পরিষ্কার রাখতে  কর্ণফ্লাওয়ারের সঙ্গে  খানিকটা জল মিশিয়ে  মিশ্রন তৈরি করতে হবে। সেই মিশ্রণটি জানালার কাঁচে লাগিয়ে একটি শুকনো নরম  কাপড় দিয়ে আলতো করে ঘষে মুছে ফেলতে হবে  আর তারপর জল দিয়ে ধুয়ে ফেললেই তফাত খুব সহজেই বোঝা যাবে। জানলার কাঁচ একেবারে ঝকঝকে-চকচকে  আর পরিষ্কার দেখতে লাগবে।

কাপড়ে লাগা রক্তের দাগ দূর করতে

কাপড় থেকে রক্তের দাগ দূর করতে হলে কর্ণফ্লাওয়ার জলে মিশিয়ে পেস্টের মতো বানাতে হবে। এরপর তা কাপড়ে লাগা রক্তের দাগের উপর ঘষে লাগিয়ে দিতে হবে ও কিছু সময়ের জন্য  রেখে একটি টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে তুলে দিলে দাগ মিলিয়ে যায় । যদি দাগ খুব কঠিন হয়ে থাকে তাহলে আরো ১ বার একই ভাবে ওপরের পদ্ধতিটি পুনরায় প্রয়োগ করতে  হবে আর তারপর কাপড় ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিলে দেখা যাবে কাপড়ে আর কোনো দাগ অবশিষ্ট নেই।

তেলের দাগ তুলতে কর্নফ্লাওয়ারের ভূমিকা

পোশাকে তেলের দাগ লাগলে সেই স্থানে  কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে দিলে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর সাবান দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে দিলেই দেখা যাবে সে দাগ উঠে গেছে ।  পোশাকে আরও কঠিন রকমের  কিছু দাগ লাগলে খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার জলের সাথে মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে দাগের জায়গায় লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। তারপর অল্প ভেজা থাকা অবস্থায় নরম টুথব্রাশ দিয়ে ঘর্ষণ করলে দেখা যাবে যে দাগ মিলিয়ে গেছে ।

কাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে

 কাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে কর্নফ্লাওয়ারের সাথে দুধ মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিতে হবে। এরপর তা দাগের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। শুকিয়ে গেলে একটি টুথব্রাশ দিয়ে ঘষে তুলে নিলে কাপড় থেকে কালির দাগ খুব সহজেই  উঠে যাবে।

শিশুর ডায়াপার র‌্যাশ দূর করার ক্ষেত্রে

ডায়াপার জনিত র‌্যাশ শিশুদের ক্ষেত্রে একটি খুব সাধারণ ব্যাপার ।তবে কর্ণফ্লাওয়ারের ব্যবহার, এ ক্ষেত্রে কিছুটা সুরাহা দেবে ।  ডায়াপার পরিবর্তনের সময় শিশুর দেহে কর্ণফ্লাওয়ার দিয়ে দিতে পারলে র‌্যাশ ওঠা বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও শিশুদের রোজকার স্নানের জলে এক চতুর্থাংশ  কাপ কর্ণফ্লাওয়ার গুলে নিলেও সমস্যা সমাধান হতে পারে।

তরল পদার্থকে ঘনীভূত করতে

 অনেক সময় তরকারির ঝোল বেশি পাতলা হয়ে  গেলে এবং অনেক জ্বাল দিয়ে ও যখন ঝোল ঘন হয় না তখন ঝোল ঘন করতে  তরকারি কে আঁচে বসিয়ে  কিছুটা কর্ণফ্লাওয়ার দিয়ে দিলেই মুশকিল আসান! তরকারির ঝোল ঘন হয়ে যাবে এবং স্বাদও বাড়বে ।

তৈলাক্ত  ত্বকের উপযোগী

 তৈলাক্ত ত্বকে সাধারণ পাউডার ব্যবহার না করে যদি অল্প কর্ণফ্লাওয়ার ট্যালকম পাউডারের সাথে মিশিয়ে  ত্বকে ব্যবহার করতে পারা যায় তাহলে ত্বক মসৃণ  দেখতে লাগবে। কর্ণফ্লাওয়ার অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বকের সৌন্দর্য  বৃদ্ধি করবে । 

পুড়ে যাওয়া ত্বকের ক্ষেত্রে

রান্না করতে গিয়ে কোথাও পুড়ে গেলে ফার্স্ট ~এড হিসেবে কর্নফ্লাওয়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।  পুড়ে যাওয়া ত্বকের ঘরোয়া চিকিৎসার জন্য  কর্ণফ্লাওয়ারের কার্যকারিতার প্রমাণ মিলেছে । ৮ কাপ ঈষদুষ্ণ গরম জলে ১ টেবিল চামচ কর্ণফ্লাওয়ার ও ১ টেবিল চামচ বেকিং সোডার মিশ্রণ তৈরি করে তাতে গজ বা পরিষ্কার কাপড় চুবিয়ে পুড়িয়ে যাওয়া অংশে আধঘণ্টা লাগিয়ে রাখলে জ্বালা যন্ত্রণার উপশম হবে এবং আরাম ও মিলবে।তাছাড়া এটি পোড়াভাবের ফলে তৈরি হওয়া জ্বলুনি কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বকের মৃত চামড়া দ্রুত সরিয়ে ফেলতে ও কার্যকরী।

তৈলাক্ত চুলে কর্নফ্লাওয়ারের জাদু

আজকাল কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষের সময়ের খুবই অভাব ।কোনো অনুষ্ঠানে বেরোবার আগে চুল তৈলাক্ত দেখতে লাগল মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।  এমন সমস্যা তো হয়েই থাকে। আর এই সমস্যার চটজলদি সমাধান দিতে পারে একমাত্র কর্নফ্লাওয়ার ।  নির্দ্বিধায় চুলের উপর খানিকটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে চুল ভাল করে আঁচড়ে নিলেই চুলের তেলতেলে ভাব সম্পূর্ণ দূর হয়ে যাবে।তাই শ্যাম্পু করার সময় বা সুযোগ না থাকলে কর্নফ্লাওয়ারই চুলের একমাত্র ভরসা।

তাছাড়া, কর্নফ্লাওয়ারের শোষণ ক্ষমতা ও এক্সফলিয়েশন উপাদানের উপস্থিতির কারণে তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে এটি দারুণ কাজ করে থাকে । মাথার ত্বকে অতিরিক্ত খুশকির সমস্যা ও দূর করে থাকে যার জন্য  কর্নফ্লাওয়ারের এত প্রসিদ্ধি ।

বাসনপত্রের কালচে ভাব দূর করতে

 রূপার গয়না বা বাসনপত্রে কালচে ভাব দেখা দিলে জলের মধ্যে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে ভাল করে গুলে তার মধ্যে কিছুক্ষণ  ডুবিয়ে রাখতে হবে।তারপর নরম ব্রাশ দিয়ে হালকা ঘষে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিলেই  রূপার গয়না বা  বাসনপত্রের কালচে ভাব উধাও হয়ে যাবে।  

বিরক্তিকর ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি দিতে

কর্নফ্লাওয়ারের শোষণ ক্ষমতা এবং মৃত চামড়া( Dead Skin)  দূর করার জন্য এক্সফলিয়েশন  উপাদান  যথাকার কারণে  কর্নফ্লাওয়ার প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহের বিশেষ অঙ্গ থেকে ব্ল্যাকহেডস দূর করতে সক্ষম।

পা ঘামার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে

গরমকালে জুতা মোজা পরলে অনেকেরই   পা ঘেমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে  । সেক্ষেত্রে জুতো  পরার আগে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার পায়ে হালকা করে লাগিয়ে নিলে পা ঘামার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তাছাড়া জুতায় দুর্গন্ধ হলে জুতার মধ্যে কিছুটা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে রাখতে পারলে এ ক্ষেত্রে উপকারী ফল পাওয়া যায় । সারারাত রেখে সকালে জুতো জোড়া ঝেড়ে নিলে আর দুর্গন্ধ থাকবে না।

শাড়িতে মাড় দেওয়ার কাজে লাগে

চটজলদি শাড়িতে মাড় দিতে হলে জলের সাথে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে গরম করতে হবে।মিশ্রণটি ঘন হয়ে গেলে সেটিকে মাড় হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পরে শাড়িটি শুকিয়ে গেলে ইস্ত্রি করে নিলে শাড়ি নতুনের মতো লাগবে।

 গিঁট ছাড়াতে প্রয়োজন কর্নফ্লাওয়ার

 কোনও অনুষ্ঠান বাড়ি যাওয়ার সময় অসতর্কতার কারণে  যদি চেইন বা ব্রেসলেটে খুব বাজে ভাবে গিঁট লেগে যায় তাহলে গিট ছাড়াবার জন্য এলোমেলো টানাটানি না করে  পরিবর্তে গিঁটের উপর কর্নফ্লাওয়ার ছিটিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তারপর যদি  গিঁট খোলার চেষ্টা হয় তবে দেখা যাব যে সেটি সহজেই খোলা যাচ্ছে , আর সমস্যা থাকছে না। দড়ি বা ফিতের গিটের ক্ষেত্রেও এই একই পদ্ধতি  প্রযোজ্য।

কর্নফ্লাওয়ারের গুণাবলির অন্ত নেই ।বহুল ব্যবহৃত এই উপাদানটি গ্রহণে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলেই স্বীকৃতি লাভ করেছে ।তাই কেবল রান্নার কাজেই নয়, দৈনন্দিন খুঁটিনাটির অনেক রকম সমস্যার সমাধানে কর্নফ্লাওয়ারের ব্যবহার ও  জনপ্রিয়তা দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রশ্নোত্তর - Frequently Asked Questions

কর্নফ্লাওয়ার আসলে কী ?

ভুট্টা চূর্ণ বা ভুট্টার গুঁড়োকে আমরা সাধারণত কর্নফ্লাওয়ারের বলে থাকি।

কর্নফ্লাওয়ার কোন ধরনের খাবারে বেশি ব্যবহৃত হয়?

চাইনিজ খাবারে

খাবার মুচমুচে করতে কোন উপাদানটির প্রয়োজন হয়?

কর্নফ্লাওয়ারের

কাপড় থেকে কালির দাগ দূর করতে কর্নফ্লাওয়ারের সাথে কি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করা হয় ?

কাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে কর্নফ্লাওয়ারের সাথে দুধ মিশিয়ে পেস্টের মতো তৈরি করে নিতে হয়।

কর্নফ্লাওয়ারে উপস্থিত কোন উপাদানটি ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি দেয়?

এক্সফোলিয়েশন উপাদান ।


Contents ( Show )

telegram channel Viral News on Telegram

পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File