Neerja Bhanot-Smit Machchhar | নীরজা থেকে স্মিত—৪০ বছর পরও আকাশে বেঁচে আছে সাহসিকতার গল্প

Key Highlightsআকাশপথে বিপদ নামলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থাকে মাত্র কয়েক মুহূর্ত। ১৯৮৬ সালে করাচিতে Pan Am Flight 73 ছিনতাইয়ের ঘটনায় নীরজা ভানোট (Neerja Bhanot) নিজের জীবন দিয়ে যাত্রীদের রক্ষা করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর flydubai FZ1073-এ ককপিটের ভিতরে হামলার ঘটনায় ফের সামনে এল বিমানকর্মীদের সাহসিকতার গল্প। ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মুম্বই-নিউইয়র্কগামী Pan Am Flight 73 করাচিতে যাত্রাবিরতির সময় চার সশস্ত্র ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে (Neerja Bhanot story)। সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার নীরজা দ্রুত পাইলটদের সতর্ক করেন। পরে গুলিবর্ষণের মধ্যে জরুরি দরজা খুলে যাত্রীদের বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন। কিন্তু তিনটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতিতে তাঁকে মরণোত্তর অশোক চক্র দেওয়া হয়। ২০২৬ সালে flydubai FZ1073-এ সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে (Smit Machchhar) আক্রমণ করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। আহত অবস্থাতেও স্মিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন (Smit Machchhar incident)। পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। ৪০ বছরে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা বদলেছে, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে মানুষের সাহস ও অন্যের জীবন রক্ষার দায়িত্ববোধের গুরুত্ব বদলায়নি।
আকাশপথে কয়েক হাজার ফুট ওপরে যখন বিপদ নেমে আসে, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ১৯৮৬ সালে পাকিস্তানের করাচিতে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় নীরজা ভানোট (Neerja Bhanot) নিজের জীবন দিয়ে যাত্রীদের রক্ষা করেছিলেন। প্রায় ৪০ বছর পর, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। ২০২৬ সালে ৩০শে সেপ্টেম্বর flydubai-এর একটি বিমানে ককপিটের ভিতরে ভয়াবহ হামলার সময় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর আহত অবস্থাতেও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেন। ১৯৮৬ সালের ঘটনা ছিল সশস্ত্র বিমান-ছিনতাই; ২০২৬-এর ঘটনা ককপিটে সহ-পাইলটের হামলা এবং বিমান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এই দুই ঘটনার মধ্যে রয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য মিল—চরম বিপদের মুহূর্তে যাত্রীদের নিরাপত্তা।
১৯৮৬: Pan Am Flight 73 ফ্লাইট হাইজ্যাক
১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। মুম্বই থেকে নিউইয়র্কগামী Pan Am Flight 73 করাচিতে যাত্রাবিরতির জন্য নামে। বিমানে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে শত শত মানুষ ছিলেন। সেই সময় চারজন সশস্ত্র ছিনতাইকারী বিমানে ঢুকে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। সিনিয়র ফ্লাইট পার্সার নীরজা ভানোট (Neerja Bhanot) দ্রুত বুঝতে পারেন যে বিমানটি ছিনতাই হয়েছে। তিনি ককপিটের ক্রুদের সতর্ক করেন। পাইলটরা বিমান থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন, ফলে ছিনতাইকারীরা সহজে বিমানটি উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারেনি (Neerja Bhanot story)। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টার ভয়াবহ পরিস্থিতি। ছিনতাইকারীরা যাত্রীদের পাসপোর্ট পরীক্ষা করতে চাইলে নীরজা (Neerja Bhanot) ও অন্য ক্রু সদস্যরা কিছু যাত্রীর পাসপোর্ট লুকিয়ে রাখেন। বিমানে গুলিবর্ষণ শুরু হলে নীরজা জরুরি দরজা খুলে যাত্রীদের বেরিয়ে যেতে সাহায্য করেন। নিজের নিরাপদে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি অন্য যাত্রীদের সাহায্য করতে থাকেন। কিন্তু তিনটি শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান।তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ নীরজা ভানোটকে (Neerja Bhanot) মরণোত্তর অশোক চক্র প্রদান করা হয়।
২০২৬: flydubai FZ1073-এ ককপিটের ভিতরে আতঙ্ক:
প্রায় চার দশক পর, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী flydubai Flight FZ1073-এ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। ঐদিন বিমানের সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। বিমানটি তখন সৌদি আরবের আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। এই অবস্থায় আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar) ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে বাগে আনেন (Smit Machchhar incident)। বিমানে থাকা দুজন অফ-ডিউটি পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। UAE কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে; তবে হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
১৯৮৬ সালে নীরজা ভানোট বন্দুকের মুখে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছিলেন। ২০২৬ সালে স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar) আহত অবস্থায় ককপিটের সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পরে যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করান। ৪০ বছরের ব্যবধানে প্রযুক্তি বদলেছে, বদলেছে নিরাপত্তাব্যবস্থা —কিন্তু বিপদের মুহূর্তে মানুষের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অন্যের জীবন রক্ষার দায়িত্ববোধের গুরুত্ব বদলায়নি।
- Related topics -
- দেশ
- ভারত
- ভারতের গর্ব
- বিমান হামলা
- বিমান
- বিমান পরিষেবা
- বিমান চালক









