আবহাওয়া

Weather Update | দিনভর বৃষ্টিতে ভিজবে তিলোত্তমা, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি গোটা রাজ্যে! হিমাচলে মৃত্যু ৬ জনের!

Weather Update | দিনভর বৃষ্টিতে ভিজবে তিলোত্তমা, মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি গোটা রাজ্যে! হিমাচলে মৃত্যু ৬ জনের!
Key Highlights

কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টপাতের সম্ভাবনা। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা উত্তরবঙ্গে। হিমাচল প্রদেশে বন্যা ও ধসে মৃত্যু একাধিকের। এখনও আচমকা বন্যার আশঙ্কা।

বেশ কয়েক দিন আগেই বর্ষার (Monsoon) আগমন হয়েছে গোটা বঙ্গে। সকাল থেকেই কালো মেঘে ঢেকেছে গোটা কলকাতা (Kolkata)। রাজ্য (West Bengal) জুড়েই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বা মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এখন লাগাতার বর্ষার কারণে কমতে চলেছে তাপমাত্রা।

চলতি মাসে অর্থাৎ জুন মাসের ১২ তারিখ উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করেছে বর্ষা। এরপর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর ১৯সে জুন দক্ষিণবঙ্গের অনেকাংশে এবং ২৩সে জুন দক্ষিণবঙ্গের বাদ বাকি জায়গাতেও পা রাখে বর্ষা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন আগামী দু ঘণ্টায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas), কলকাতা, হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly), ঝাড়গ্রাম (Jhargram) ও  মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায়। 

পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর (East Medinipur) ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলাতেও এদিন অর্থাৎ ২৬সে জুন প্রায় সারাদিনই বৃষ্টি হবে বলে জানা গিয়েছে। বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূল ও উড়িষ্যা সংলগ্ন জেলাগুলিতে। জানা গিয়েছে, আজ এবং কাল। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি  হতে পারে। বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া (Bankura), পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর (East and West Medinipur) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা না থাকলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে খবর। সোমবার সারাদিনই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে শহরে। হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিও। তবে আপাতত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।

অন্যদিকে, আগামী বুধবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের পাঁচ জেলা দার্জিলিং (Darjeeling), কালিম্পং (Kalimpong), আলিপুরদুয়ার (Alipurduar), কোচবিহার (Coochbehar) ও জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri)। এর মধ্যে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

উল্লেখ্য, হাওয়া অফিসের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে (West Bay of Bengal) একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্তটি উত্তর ওড়িশা (North Odisha) এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূল (West Bengal Coast) ঘেঁষে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিমি ওপরে রয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামীকালে এই ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। যার জেরে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও ওড়িশা (Odisha) সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারার সম্ভাবনা থাকছে। এই নিম্নচাপের জেরে সাগরে হাওয়ার বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি। ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিয়ে মৎস্যজীবীদের উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

কেবল বাংলাতেই নয়, বর্ষার ফলে তাপমাত্রা কমতে চলেছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে ছত্রিশগড় (Chhattisgarh), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh) ও বিদর্ভ (Vidarbha), উড়িষ্যা (Odisha), উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand), মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh), কোঙ্কন (Konkan), গোয়া (Goa), কেরালা (Kerala), মাহে (Mahe) এবং রাজস্থানে (Rajasthan)। বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হবে পঞ্জাব (Punjab), হরিয়ানা (Haryana), চন্ডিগড় (Chandigarh), দিল্লি (Delhi) সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

প্রসঙ্গত, এক নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত হিমাচল প্রদেশ (Himachal Pradesh)। হড়পা বান ও ধসের কারণে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা।  কুল্লু (Kullu), মান্ডিতে (Mandi) আটকে পড়েছেন অন্তত ২০০ জন পর্যটক।জাতীয় সড়কের উপর প্রায় ১৫ কিমি লম্বা জ্যামে আটকে অসংখ্য গাড়ি। ইতিমধ্যেই প্রবল বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য হিমাচল প্রদেশে মৃত্যু হয়েছে ৬জনের। আহত হয়েছে প্রায় ১০ জন। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩০০ গবাদি পশুরও।

 বিপর্যয় মোকাবিলা দল (Disaster Management Team) সূত্রে খবর, হামিরপুরের সুজনপুরের খয়রিতে (Khayri of Sujanpur,Hamirpur) গত রবিবার মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়েছে অন্তত ৫টি বাড়ি। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সোলানের আরকি (Arki), সিমলার রামপুর (Solan, Rampur) ও হামিরপুরে। বিপর্যয়ের কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একাধিক সড়ক ও পর্যটকস্থান। জানা গিয়েছে, চণ্ডীগড় (Chandigarh), মানালি মহাসড়ক (Manali Highway) ৩টি স্থানে বন্ধ থাকায় বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও সাধারণ মানুষ রাত কাটাচ্ছেন যানবাহনে। তবে এখনই বিপদ কাটেনি। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টায় হঠাৎ বন্যার (Flash Flood) আশঙ্কা থাকছে এখনও।