Euthanasia in India | দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি! অরুণা শানবাগ থেকে হরীশ রানা, কীভাবে ভারতে বদলেছে মৃত্যুর অধিকারের আইন!

Friday, March 13 2026, 2:34 pm
Euthanasia in India | দেশে প্রথম নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি! অরুণা শানবাগ থেকে হরীশ রানা, কীভাবে ভারতে বদলেছে মৃত্যুর অধিকারের আইন!
highlightKey Highlights

প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া ভারতে নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ, তবুও বিষয়টি এখনও সংবেদনশীল। মৃত্যুর অধিকার এক সময়ে ভারতীয় আইনে ছিল অচিন্তনীয়। অরুণা শানবাগ মামলা থেকে হরীশ রানার মামলা পর্যন্ত কঠিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল রেখে শীর্ষ আদালতও স্বীকার করলো, কৃত্রিমভাবে কোনও মানুষকে বাঁচিয়ে রেখে তার যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করা অর্থহীন। অরুণা শানবাগ মামলার হাত ধরে ভারতের প্রথমবার আইনি স্বীকৃতি পায় প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া। সম্প্রতি হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যা দেশের মধ্যে এই প্রথম।


প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া ভারতে নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ, তবুও বিষয়টি এখনও সংবেদনশীল। মৃত্যুর অধিকার এক সময়ে ভারতীয় আইনে ছিল অচিন্তনীয়। অরুণা শানবাগ (aruna shanbaug) মামলা থেকে হরীশ রানার মামলা পর্যন্ত কঠিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল রেখে শীর্ষ আদালতও স্বীকার করলো, কৃত্রিমভাবে কোনও মানুষকে বাঁচিয়ে রেখে তার যন্ত্রণা দীর্ঘায়িত করা অর্থহীন। অরুণা শানবাগ মামলার হাত ধরে  ভারতের প্রথমবার আইনি স্বীকৃতি পায় প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া। সম্প্রতি হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যা দেশের মধ্যে এই প্রথম (euthanasia in india​)। এই ঘটনার পরই আদালতের বক্তব্য, নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে একটি নির্দিষ্ট আইন আনার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত।

ভারতে ইউথেনেশিয়া (euthanasia in india​) নিয়ে আইনি বিতর্ক শুরু হয় ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ (aruna shanbaug) মামলাকে ঘিরে। মুম্বইয়ের কেম হাসপাতালে কর্মরত ২৫ বছর বয়সী এই নার্স ১৯৭৩ সালের ২৭ নভেম্বর যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কুকুর বাধার শিকল দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাঁর উপর নির্যাতন চলে। ওই অত্যাচারের ফলে তাঁর মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি হয়। সেই থেকে চার দশক ধরে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন তিনি। নিউমোনিয়ায় ভুগতে ভুগতে ২০১৫ সালের ১৫ মে অরুণার মৃত্যু হয়। কিন্তু তার আগে অরুণার নিষ্কৃতিমৃত্যুর জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। যদিও তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে মৃত্যুর আগে আরও চার বছর ধরে যন্ত্রণাভোগ করতে হয়েছিল অরুণাকে।

২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার রায় দিতে গিয়ে প্রথমবার বলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া অনুমোদন করা যেতে পারে। অর্থাৎ, রোগীর আর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে আদালতের অনুমতি নিয়ে লাইফ সাপোর্ট তুলে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে আদালত কঠোর কিছু শর্তও বেঁধে দিয়েছিল—পরিবারের আবেদন, চিকিৎসকদের মতামত ও সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের অনুমতি ছিল বাধ্যতামূলক। সেই রায়ের মাধ্যমে ভারতে প্রথমবার ‘মৃত্যুর অধিকার’ নিয়ে আইনি কাঠামো তৈরি হয়।

লিভিং উইল স্বীকৃতি (২০১৮) : 

২০১৮ সালে ‘কমন কজ বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট আরও গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালত জানায়, একজন ব্যক্তি আগেই লিখিতভাবে জানিয়ে রাখতে পারেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখার চিকিৎসা চান না। অর্থাৎ স্বেচ্ছামৃত্যু। এই নথিকে বলা হয় ‘লিভিং উইল’। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করে দেয়—‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ (Right to Die with Dignity) সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অংশ।

হরিশ রানা মামলা (২০২৬) : 

সম্প্রতি হরিশ রানা (harish rana)মামলার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট দীর্ঘদিন ধরে ভেজিটেটিভ (Persistent Vegetative state) অবস্থায় থাকা এক রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বছর বত্রিশের হরীশ গত ১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী। চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হরীশ ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান। সেই থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী যুবক।  তিনি কোয়াড্রিপ্লেজিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। বাইরের জগৎ বা নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তাঁর কোনও চেতনা নেই। কেবল আছে প্রাণটুকু। 

এ অবস্থায় হরীশকে কি ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ (প্যাসিভ ইউথানেসিয়া) দান করা যায়? তা খতিয়ে দেখার জন্য নয়ডা জেলা হাসপাতালে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মামলাটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হয়। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শীর্ষ আদালত হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দেয়। যা দেশে প্রথম। তাঁর বাবা-মায়ের অনুরোধে জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পর্দীওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর রায় দিতে গিয়ে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’-এর প্রসিদ্ধ লাইন ‘টু বি অর নট টু বি’ লাইনটি উল্লেখ করে। আদালত জানায়,  দু’টি কারণের উপর ভিত্তি করে এই নিষ্কৃতিমৃত্যুর (euthanasia in india​)অনুমতি দেওয়া হয়েছে— এক, হরীশের চিকিৎসাব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি এবং দ্বিতীয়, রোগীর পক্ষে কোনটা ভাল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লির এমসে হরীশকে ভর্তি করতে হবে। সেখানে অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে এবং একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তাঁর জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলতে হবে।

প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া ভারতে নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ হলেও বিষয়টি এখনও সংবেদনশীল। ধর্মীয়, নৈতিক এবং আইনি নানা বিতর্ক রয়েছে এই প্রসঙ্গকে নিয়ে। তবে অরুণা শানবাগ থেকে হরিশ রানা (harish rana)—এই দীর্ঘ আইনি পথচলা দেখিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেওয়ার দিকে এগিয়েছে এবং মৃত্যুর অধিকার নিয়ে আইন আনারও চিন্তা ভাবনা করছে।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File