মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খাদ্যের ভূমিকা কতোটা জানেন? Role of food in improving mental health

Thursday, December 21 2023, 2:15 pm
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে খাদ্যের ভূমিকা কতোটা জানেন? Role of food in improving mental health
highlightKey Highlights

আমরা সবাই জানি সুস্বাস্থ্যের জন্য খাদ্যের প্রয়োজন, কিন্তু মানসিকভাবে সুস্থ থাকতেও খাদ্যের ভূমিকা আছে, তা আমাদের অনেকের কাছেই অজানা।


সুস্বাস্থ্যের জন্য রোগমুক্ত সুস্থ শরীরের পাশাপাশি ভয়, হতাশা, বিষণ্নতা ও মানসিক চাপমুক্ত থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজন। আমাদের স্বাস্থ্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্য গ্রহণ সাহায্য করে।

বিষণ্নতা কমাতে এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখতে কী কী খাদ্য সহায়তা করে

খাবারে বেশি শাকসবজি, ফল, বাদাম, শস্য, মাছ, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড জাতীয় খাদ্য ও মাছের তেলের সাপ্লিমেন্ট  যারা নিয়মিত গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা অনেক কমে গেছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

Trending Updates
পুষ্টিকর খাবার
পুষ্টিকর খাবার

কম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য, বেশি সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যগ্রহণ শৈশব ও কৈশোরকালে দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অপুষ্টি ও অতিপুষ্টি হল শারীরিক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ।

সুষম খাদ্য
সুষম খাদ্য

পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য মস্তিষ্কের বিকাশ বৃদ্ধি করে থাকে। ব্রেনের প্রোটিন ও এনজাইম নিউরো ট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে, কিছু হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে এবং স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে উন্নত করে।

জিঙ্ক: খাদ্যে জিঙ্ক কম থাকলে তা বিষণ্নতার কারণ হয়, অন্যদিকে  জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জিঙ্ক আমাদের স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিঙ্কের ভালো উৎস হল দই, মাছ, গরুর মাংস, ডিম, দুধ, পনির, মিষ্টিকুমড়ার বিচি, মাশরুম, তিল, চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পালংশাক ইত্যাদি।

জিঙ্ক জাতীয় খাদ্য
জিঙ্ক জাতীয় খাদ্য

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: এটি মুড ঠিক রাখতে, চিন্তাকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ওমেগা ৩ হলো অসম্পৃক্ত ফ্যাট, যা মূলত মাছের তেলে পাওয়া যায়। তবে সামুদ্রিক মাছে তা বেশি পাওয়া যায়। ইলিশ, টুনা, স্যামন, সার্ডিন মাছ ছাড়াও কিছু খাবারে পাওয়া যায়, যেমন আখরোট, চিয়াসিড, তিসির তেল, সয়াবিন, সবুজ পাতাওয়ালা সবজি।

ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড
ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট:  ক্লান্তি দূর করতে, প্রাণোচ্ছলতা বজায় রাখতে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য। ভিটামিন সি, ই, বিটা ক্যারোটিন, কাঠবাদাম, গ্রিন টি, লাল আটা,বাদাম প্রভৃতি খাবারে পাওয়া যায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এগুলো স্মৃতিশক্তিজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

গ্রীন টি
গ্রীন টি

বি১২: এই ভিটামিনের অভাবে অবসাদ, ক্লান্তি, বিরক্তি, মানসিক চাপ, হতাশার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ভিটামিন বি১২ ঘাটতির কারণে বিস্মৃতি বা ভুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়, এটি বিশেষত বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই স্মৃতিশক্তিকে উন্নত করতে ভিটামিন ১২-সমৃদ্ধ খাদ্য অর্থাৎ দুধ, ডিম, পনির, কম চর্বিযুক্ত দই গ্রহণ করা প্রয়োজন।

দুগ্ধজাত খাদ্য
দুগ্ধজাত খাদ্য

আয়রন: আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয়ে থাকে। আর এ কারণে বিষণ্নতা তৈরি হতে পারে। গরু বা খাসির কলিজা, ডিম, ছোলা, আটা, শিমের বিচি, গুড়, খেজুর, কিশমিশ, কলা, জাম, আমড়া, তরমুজ, মেথি, পুঁইশাক, ছোলা শাক, কালো কচুশাক, পালংশাক প্রভৃতি গ্রহণের ফলে আয়রনের ঘাটতি দূর হয়।

আয়রন জাতীয় খাদ্য
আয়রন জাতীয় খাদ্য

অপুষ্টি বা অতিপুষ্টি ; উভয় কারণবশত ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায় । তাই বয়স, লিঙ্গ, কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে দৈনিক ক্যালরি গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাহলে কেবলমাত্র শারীরিকভাবেই আপনি সুস্থ থাকবেন না মানসিকভাবেও থাকবেন প্রাণবন্ত ।




পিডিএফ ডাউনলোড | Print or Download PDF File